প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের পর থেকেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। মূলত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল।
আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দুটি দলের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে:
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): আসিফের বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষী তরুণদের নিয়ে গঠিত এই নতুন রাজনৈতিক দলে তার ঘনিষ্ঠজনেরা রয়েছেন।
গণঅধিকার পরিষদ: তার অগ্রজ ও বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ এই দলে সক্রিয়।
রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন হলো, আসিফ মাহমুদ এই দুটি দলের মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারেন। যদিও পদত্যাগের আগের সংবাদ সম্মেলনে আসিফ এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাননি।
এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান যুগান্তরকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
সখ্য ও আলোচনা: রাশেদ খান নিশ্চিত করেছেন যে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এক সময় তাদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং তাদের মধ্যে সখ্য রয়েছে। তিনি বলেন, আসিফের পদত্যাগ করার আগের দিনও তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে।
ইতিবাচকতা: রাশেদের মতে, আসিফ মাহমুদ গণঅধিকার পরিষদে আসার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন, তবে এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
যোগ্যতা অনুযায়ী সম্মান: রাশেদ খান ঘোষণা করেন, "তিনি যদি আমাদের সঙ্গে আসতে চান। সেক্ষেত্রে তার যোগ্যতা ও মর্যাদা অনুযায়ী তাকে সম্মানিত করা হবে।"
সহজ মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ: রাশেদ দৃঢ়ভাবে বলেন, যেহেতু তারা একসঙ্গে রাজনীতি করেছেন এবং তাদের সখ্য রয়েছে, "গণঅধিকার পরিষদে আসলে তার জন্য ভালো হবে। তিনি সহজে আমাদের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন। যেটি অন্য দলের ক্ষেত্রে তার জন্য কঠিন হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, "তার জন্য গণঅধিকার পরিষদের দরজা সবসময় খোলা রয়েছে।"
আসিফ মাহমুদের নেতৃত্ব এবং সাহসকে উচ্চ প্রশংসা করেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন,
"আন্দোলন সংগ্রমে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তিনি নায়ক। তিনি চাইলে যে কোনো দলে যোগদান করতে পারেন। অথবা নতুন দলও গঠন করতে পারেন। সেই স্বাধীনতা তার রয়েছে।"
রাশেদ খান আরও বলেন, "আসিফ মাহমুদের জন্যই ৬ আগস্টের কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট করা হয়। এই সাহসী ভূমিকা ছিল তার। যে সিদ্ধান্তের কারণে স্বৈরাচারী হাসিনার পতন হয়। তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা দেখানো উচিৎ।"
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আসিফের কোনো ভুল-ভ্রান্তি হয়ে থাকলে তা নিয়েও কথা বলেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন,
"তিনি (আসিফ) উপদেষ্টা ছিলেন, সরকারে থাকলে সমালোচনা হয়। বয়স তো খুব বেশি না, এই বয়সে বেশ কিছু ভুল-ভ্রান্তি করেছেন। আমরা মনে করি বয়স বাড়ার সঙ্গে তার ভেতরে পরিপক্কতা বাড়বে। বুঝবেন, দেখবেন, শিখবেন। তার ভুল-ভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা করা এই মুহূর্তে সমীচীন নয়।"
আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক দল নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রেক্ষাপটে তরুণ নেতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরছে। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো এবারের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আসা নতুন মুখের অংশগ্রহণ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা যায়। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তারা আসিফকে তাদের দলে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং তার মর্যাদা ও জুলাই অভ্যুত্থানে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিতে আগ্রহী। আসিফের সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তরুণ ও ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
১. ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও মো. রাশেদ খানের বক্তব্য।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |