ঢাকা: সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে টেলিযোগাযোগ খাতে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা থাকলেও, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে সংস্কারের জন্য নমনীয় হয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। অনিবন্ধিত ডিভাইসের ব্যবহার রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা ছিল।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) দিনভর বিটিআরসি ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভের পর মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)-এর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এনইআইআর সংস্কারে সম্মত হয়েছে বিটিআরসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা চলমান অবরোধ সোমবার পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেন। রোববার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারীর আশ্বাসের ভিত্তিতে এই ঘোষণা আসে।
এনইআইআর চালু হলে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে নিবন্ধনবিহীন, চুরি হওয়া বা অনুমোদনহীন আমদানি করা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ হয়ে যাবে।
নির্বাচনের আগে অবৈধ ডিভাইসকেন্দ্রিক অপরাধ দমন, সুলভ দামে মোবাইল সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কার্যকর করার সিদ্ধান্ত সরকার নেয়। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব জানান, দেশে ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল প্রতারণায় অবৈধ স্মার্টফোন ব্যবহৃত হয়, আর এই অপরাধচক্র বন্ধ করতেই সরকার কঠোর হচ্ছে।
অনিবন্ধিত মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে দোকানগুলোতে পছন্দের ফোন কিনতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। ক্রেতাদের মূল অভিযোগ, প্রচলিত শুল্ক ও ভ্যাটের কারণে অফিসিয়াল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, ২০ হাজার টাকার একটি ফোনে ৫৭ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়ে দাম ৫০ হাজার টাকারও বেশি হয়ে যাবে—যা বিশেষ করে ছাত্র ও যুবকদের বাজেটের বাইরে।
অন্যদিকে, রোববার সকাল ১০টা থেকে এনইআইআর সংস্কারসহ কয়েকটি দাবিতে ‘এমবিসিবি’র ব্যানারে শত শত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেন। এতে বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভবনের ভেতর অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন এবং সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
ব্যবসায়ীদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনইআইআর সংস্কার, সিন্ডিকেট প্রথা বাতিল এবং মোবাইল ফোন আমদানির সুযোগ উন্মুক্ত করা। তাদের অভিযোগ, এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে লাখো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং নতুন নিয়মের ফলে একটি বিশেষ গোষ্ঠী লাভবান হবে।
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ব্যবসায়ীদের অভিযোগের জবাবে বলেন, "মোবাইল ফোন চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থে আঘাত লাগায় সরকারের উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালুর সিদ্ধান্তে সরকার অনড়।
এদিকে, বিটিআরসি সূত্রে জানা গেছে, এনইআইআর-সংক্রান্ত সব জটিলতা নিরসনে একটি যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা, এনবিআর চেয়ারম্যান, বাণিজ্য সচিব, মোবাইল ফোন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং এমবিসিবি-এর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
সরকারের আইসিটি বিভাগ জানিয়েছে, এনইআইআর চালুর আগের দিন পর্যন্ত নেটওয়ার্কে থাকা সব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পরবর্তীতে বিদেশ থেকে কেউ ফোন নিয়ে এলে অনলাইনে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব-এর মন্তব্য
বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |