প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ ঘনীভূত হওয়ার খবর জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। যদিও এই সিস্টেমের কারণে বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কম, তবে এর পরোক্ষ প্রভাবে এবং উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে শৈত্যপ্রবাহ (শীতলপ্রবাহ) বাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, মালাক্কা প্রণালী ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘শেন-ইয়ার’ দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি দক্ষিণপূর্ব/পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আরও দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
অন্যদিকে, দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন শ্রীলঙ্কা উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই নিম্নচাপটি সরাসরি বাংলাদেশের দিকে না আসলেও, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যা বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শুষ্ক, শীতল বাতাস টেনে আনবে।
আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি: এই নিম্নচাপের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন ঘটবে। ফলে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প আসার পথ রুদ্ধ হয়ে যায় এবং উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক, শীতল বাতাসের প্রভাব বাড়ে।
বিএমডি’র পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা এবং আগামীকাল শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও দুর্যোগ একটি ঐতিহাসিক ইস্যু। স্বাধীনতার পর থেকে ঘূর্ণিঝড় ও শৈত্যপ্রবাহের মোকাবিলা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।
ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা (১৯৭০-১৯৯১): ১৯৭০ সালের ভয়াবহ ভোলা ঘূর্ণিঝড় এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সম্পদকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। এই দুর্যোগগুলোই পরবর্তীতে আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (যেমন, সাইক্লোন শেল্টার, পূর্বাভাস ব্যবস্থা) গড়ে তুলতে সরকারকে বাধ্য করে। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, উপকূলীয় সুরক্ষা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।) **
শৈত্যপ্রবাহের সামাজিক প্রভাব: দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলিতে (যেমন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ) প্রতি বছর তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলে। ১৯৯০-এর দশক থেকে সরকার ও এনজিওগুলো শৈত্যপ্রবাহ মোকাবিলায় কম্বল বিতরণ এবং জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে আসছে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের বছরেও শীতকালীন প্রস্তুতি ও দরিদ্রদের মাঝে উষ্ণ বস্ত্র বিতরণের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণায় গুরুত্ব পেতে পারে। **(১৯৫০-২০২৫ প্রেক্ষাপট: আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থা (বিএমডি) আধুনিকায়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা একটি নিয়মিত সরকারি কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে।) **
১. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) কর্তৃক প্রকাশিত পূর্বাভাস (২৭ নভেম্বর, ২০২৫)। ২. ঘূর্ণিঝড় 'শেন-ইয়ার' এবং নিম্নচাপের উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ। ৩. বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ওপর পরিবেশ গবেষকদের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |