প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন ইস্যুটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২৬ নভেম্বর, বুধবার, নরসিংদীর সদর উপজেলার চিনিশপুর ঈদগাহ মাঠে মহিলা দল আয়োজিত এক নারী সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন এই বিষয়ে দলের সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে বিএনপি যদি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসে, তবে নারীদের অধিকারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে।
খোকন বলেন, "নারীদের ওপর কেউ কোনো ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন করতে পারবে না। নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকার কঠিন থেকে কঠিনতম ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।" এই বক্তব্যটি বর্তমান সময়ে নারী নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক দলগুলোর দায়বদ্ধতার ওপর নতুন করে আলোকপাত করেছে।
জনাব খোকন তার বক্তব্যে বিগত সরকারগুলোর আমলে বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে নেওয়া একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
শিক্ষায় সুযোগ: শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করা হয়, যা শিক্ষাক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল।
আইনের কঠোরতা: অ্যাসিড নিক্ষেপকারীদের জন্য মৃত্যুদণ্ড শাস্তির বিধান চালু করা হয়। উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে এসিড সন্ত্রাস একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছিল, যার সমাধানে এই পদক্ষেপ ছিল অত্যন্ত জরুরি এবং ফলপ্রসূ।
সামাজিক সংস্কার: যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ নারীদের কল্যাণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপগুলি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ১৯৯০ এর দশক থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নির্যাতন প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নিশ্চিত করে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা ভবিষ্যৎ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে খায়রুল কবির খোকন নিশ্চিত করেন যে, আগামী দিনে ক্ষমতায় এলে তাঁর নির্দেশিত নীতিমালায় নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, যেখানে দেশের মূল স্লোগান 'স্মার্ট বাংলাদেশ', সেখানে নারীদের অর্থনৈতিক মুক্তি, ডিজিটাল সুরক্ষার পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের দাবিও সমানভাবে জোরালো।
১৯৫০-এর দশকে ভাষা আন্দোলনে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তনে নারীদের সরাসরি ভূমিকার শুরু। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারীদের ত্যাগ ও অবদান স্বাধীনতার মূল ভিত্তি তৈরি করে। এরপর বিভিন্ন সামরিক শাসন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নারীরা সামনের সারিতে থেকেছেন। ২০০০ সালের পর থেকে রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ যেমন বেড়েছে, তেমনি নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষার দাবিও জোরদার হয়েছে। বর্তমানে ২০২৫ সালের রাজনৈতিক আলোচনায় নারীর সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রতিটি দলের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে উঠে আসছে।
এই গুরুত্বপূর্ণ নারী সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি ও বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শিরিন সুলতানা, নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নরসিংদী শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দীন ভূঁইয়া, নরসিংদী জেলা মহিলা দলের সভাপতি উম্মে সালমা মায়া, সাধারণ সম্পাদক স্বপ্না আহমেদ, সদর উপজেলা মহিলা দলের তাহমিনা হামিদ এবং মনিরা বেগম প্রমুখ।
জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের প্রকাশিত প্রতিবেদন।
বিএনপি’র বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
১৯৯০-এর দশকে বাংলাদেশের নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেট এবং নীতিমালা।
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |