| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 22-11-2025 ইং
  • 4414088 বার পঠিত
বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক

বাংলাদেশ-ভুটান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা

রিপোর্টার: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফর: দুই দেশের সহযোগিতা ও সম্পর্কের নতুন দিগন্ত

২২ নভেম্বর, তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন, যেখানে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিস্তৃত পরিসর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে মূলত বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, পরিবহন, জ্বালানি, পরিবেশ এবং ইন্টারনেট সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী তোবগে দুপুর ৩টা ১৫ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের কার্যালয়ে পৌঁছান এবং প্রথমে ৩০ মিনিটের একান্ত বৈঠক করেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টার আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব

অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, "ভুটান আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু। আঞ্চলিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ভুটান ঢাকার দৃষ্টিভঙ্গির একটি মূল অংশ।" তিনি দুই দেশের যৌথ ইতিহাসও তুলে ধরেন, এবং বলেন, "আমাদের ভবিষ্যৎ একই সুতোয় গাঁথার মতো।"

প্রধানমন্ত্রী তোবগে এই সম্পর্কের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন, "ভুটান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও চমৎকার সম্পর্ক বিদ্যমান, এবং বাংলাদেশ ভুটানের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উৎস।"

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অগ্রগতি

দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। ২০২০ সালে বাংলাদেশ এবং ভুটান একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। প্রধানমন্ত্রী তোবগে বলেছেন, "ভুটান থিম্পু যত দ্রুত সম্ভব এফটিএ স্বাক্ষর করতে চায় এবং আমরা আশা করছি ভুটানই হবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিবদ্ধ দেশ।"

এফটিএ দুটি দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় যৌথ উদ্যোগ

বৈঠকে বাংলাদেশ ভুটানের নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেয়। অধ্যাপক ইউনূস জানিয়েছেন, "বাংলাদেশ নীলফামারীতে ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল এবং একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণ করছে। আমরা আশা করি ভুটানের নাগরিকরা এই সুবিধা গ্রহণ করবেন।"

এছাড়া, ভুটান থেকে বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বুয়েটে আসন বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।

পর্যটন ও পরিবহন ক্ষেত্রে সহযোগিতা

দুই দেশ পারস্পরিক পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে একমত হয়েছে। বাংলাদেশের বৌদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "আমি আশা করি আরও বেশি ভুটানি পর্যটক বাংলাদেশে এসে বৌদ্ধ ঐতিহ্য অন্বেষণ করবেন।"

এছাড়া, দুই নেতা ভুটান থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ আমদানির সম্ভাবনা এবং বিদ্যুৎ বাণিজ্যে ভারতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও প্রশংসা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস পুনরায় উল্লেখ করেছেন, "সব প্রতিবেশীর সঙ্গে একটি যৌথ, দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করা আমাদের মূল অগ্রাধিকার।"

প্রধানমন্ত্রী তোবগে বাংলাদেশের রূপান্তরকালীন সময়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টা এবং তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।

এমওইউ স্বাক্ষর

আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ এবং ভুটান দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে, যার মধ্যে একটি স্বাস্থ্যসেবা এবং আরেকটি আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বাণিজ্য সংক্রান্ত।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency