শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায়: ট্রাইব্যুনাল তারিখ নির্ধারণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিন ধরে চলা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার নির্দেশে প্রায় দেড় হাজার নিরীহ ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয় এবং ৩০ থেকে ৩৫ হাজার আহত হন।
এই ঘটনায় প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।
এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর, আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে রায়ের তারিখ ধার্য করবে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করবে। অন্যান্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার শুনানির সময়, জুলাই আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঘটিত গণহত্যা, নৃশংসতা, গুম-খুন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। গত ১০৩ দিনে ৫৪ জন সাক্ষী, শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি এবং চিকিৎসকদের সাক্ষ্য নিয়ে এই ঘটনার বিস্তারিত চিত্র প্রকাশিত হয়। প্রসিকিউশন জানায়, এসব সাক্ষ্য এবং প্রমাণ পৃথিবীর যে কোনো আদালতে আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট।
শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির রায় ঘোষণাকে ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা নানা অপকৌশল গ্রহণের চেষ্টা করছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিমকোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এবং বার ভবন এলাকায় বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে জুলাই আন্দোলনে হত্যাযজ্ঞ চালানোর মামলার রায় শিগগিরই ঘোষিত হবে। একই সঙ্গে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের হত্যা এবং গুম-খুনের ঘটনার সঙ্গেও শেখ হাসিনার বিচার চলছে।
প্রসিকিউশন দাবি করেছে, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত। তারা বলছে, এই রায় আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে, যাতে খুনের রাজনীতি বন্ধ হয়।
জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। বিচার প্রক্রিয়া যে কোনো অবস্থাতেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে।
সূত্র:
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |