| বঙ্গাব্দ

আবু হানিফ: আওয়ামী লীগ চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-11-2025 ইং
  • 3619164 বার পঠিত
আবু হানিফ: আওয়ামী লীগ চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে
ছবির ক্যাপশন: আবু হানিফ

আবু হানিফের অভিযোগ: আওয়ামী লীগ চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বুধবার সন্ধ্যায় এক সমাবেশে অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন স্থানে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা করছে। তিনি বলেন, "নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ যখন অবৈধভাবে ক্ষমতায় ছিল, তখনও জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের ফাঁসানো হত। এখন তারা আবারও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গোপনে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন বিপদে ফেলছে।"

এই অভিযোগটি এসেছে রামপুরা থানার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ মশাল মিছিলের পর অনুষ্ঠিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে।

২০১৫ সালের পর আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন

আবু হানিফ বলেন, "গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে এসেছে।" তিনি বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র‑জনতার উপর হামলা এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে কথা বলেন। "যখনই তারা জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যায়, তখনই তারা আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করে বা সাধারণ জনগণকে হামলা করে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।"

হানিফ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ এখন ভারতের সহযোগিতায় দেশের অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে এবং আসন্ন নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার রোধ করার চেষ্টা করছে। তবে তিনি আরও দাবি করেন, জনগণ এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চায় এবং কোনো অপশক্তিই নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

আগুন সন্ত্রাস ও ককটেল বিস্ফোরণ

আবু হানিফ বলেন, "আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসতে চাইছে, কিন্তু তারা জানে না যে, এসব কর্মকাণ্ড তাদের জন্য বিপদজনক হবে এবং জনগণ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।" তিনি দাবি করেন, "আওয়ামী লীগ তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাসভঙ্গ করেছে, আর এখন তারা পুনরায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে।"

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী অবস্থা

২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া ক্ষমতাচ্যুতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যায়। হানিফের মতে, "অবৈধ সরকার ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, আর এর মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হয়েছে।"

এছাড়া, ২০২৪ সালে ছাত্র‑জনতার হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয় এবং জনগণ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করে। "এখন আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বাঁচাতে ষড়যন্ত্র করছে, কিন্তু জনগণ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে," বলেন আবু হানিফ।

বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন নেতা

এই প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম রতন, মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, সহসভাপতি রাকিবুল হাসান, অপূর্ব আলমগীর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হাসান এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাব্বির প্রমুখ।

উপসংহার

আবু হানিফের ভাষায়, আওয়ামী লীগের অবৈধ কার্যকলাপ দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার জন্য প্রস্তুত।


সূত্র:

  1. BBC News

  2. The Daily Star

  3. Bangladesh Today


প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency