| বঙ্গাব্দ

গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: “এই সরকারের কি অধিকার আছে?”—ফরহাদ মজহার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-11-2025 ইং
  • 2737913 বার পঠিত
গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: “এই সরকারের কি অধিকার আছে?”—ফরহাদ মজহার
ছবির ক্যাপশন: ফরহাদ মজহার

গণভোট কিসের ভিত্তিতে?’—সরকারের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন ফরহাদ মজহারের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

কবি, চিন্তক ও গবেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, বর্তমান সরকারের কোনো সাংবিধানিক এখতিয়ার নেই গণভোট আয়োজনের। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—“গণভোট কে দেবে? এই সরকারের কী ক্ষমতা আছে গণভোট দেওয়ার? প্রধান উপদেষ্টা তো নিজেই বলছেন, সংবিধান রক্ষা করবেন। তাহলে সংবিধান রেখে কিসের গণভোট?”

সোমবার (১০ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ’ আয়োজিত ‘নতুন বাংলাদেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


“এ সরকার অন্তর্বর্তী নয়, উপদেষ্টা সরকার”—ফরহাদ মজহার

বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন:

“এ সরকার অন্তর্বর্তী সরকার নয়, এটি উপদেষ্টা সরকার। উপদেষ্টা সরকারের কাজই হলো পরামর্শ দেওয়া, রাষ্ট্র পরিচালনা বা সংবিধান সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। তাই গণভোট আয়োজনের এখতিয়ারও এদের নেই।”

তিনি দাবি করেন, যদি সত্যিই গণভোট করতে হয়, তবে একমাত্র বৈধ পথ হলো গণপরিষদ গঠন। তাঁর ভাষায়—

“এখন একমাত্র গণপরিষদ গঠন করে সেই পরিষদের সম্মতিতে গণভোট আয়োজন বৈধ হতে পারে। অন্যথায় কোনো গণভোট সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।”


‘পুরোনো সংবিধান রেখে নতুন বাংলাদেশ নয়’

ফরহাদ মজহার আরও বলেন—

  • “পুরোনো সংবিধান রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। সংবিধান থাকবে, আবার সংবিধানবিরোধী ভূমিকা নিবেন—এ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।”

  • “গত বছর ৮ আগস্ট দেশে একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব হয়েছে। সেই ঘটনার পর যাদের ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলা হচ্ছে, তারা শেখ হাসিনার সরকারের তৈরি সংবিধানের অধীনে শপথ নিয়েছে—তাই তারা আর অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।”


সেনাবাহিনীর ভূমিকা অস্বীকার করা হয়েছে—অভিযোগ

সভায় আরেকটি গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন—

“গত বছরের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের বিজয়ের পর আট তারিখের মধ্যে একটি বড় অংশ চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ছিল, অথচ ৫ আগস্টের পর তাদের অবদান অস্বীকার করা হয়েছে।”


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন

  • নতুনধারা জনতার পার্টির চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ আবদুল আহাদ নূর

  • গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার ইফতেখার

  • সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান

  • যুবনেতা এ বি এম ইউসুফ

  • জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক
    সহ অনেকে। সভার সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সাদেক রহমান।

বক্তারা দাবি করেন—সংবিধান সংস্কার এবং গণভোট বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনগত কাঠামোর ভিতর, অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।


উপসংহার

ফরহাদ মজহারের বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—বর্তমান সরকার কি সত্যিই গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে, নাকি গণপরিষদ ছাড়া গণভোট হবে অবৈধ? সেদিকেই এখন দেশের রাজনৈতিক মহলের নজর।


সূত্র

  1. জাতীয় প্রেস ক্লাব—‘নতুন বাংলাদেশ গঠনের চ্যালেঞ্জ’ আলোচনা সভা

  2. সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ—সরকারি বিবৃতি ও বক্তাদের মন্তব্য

  3. সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণ—নভেম্বর ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency