| বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: ট্রাইব্যুনালে নতুন তথ্য, সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-10-2025 ইং
  • 5240335 বার পঠিত
বগুড়ায় ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: ট্রাইব্যুনালে নতুন তথ্য, সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান
ছবির ক্যাপশন: ট্রাইব্যুনালে নতুন তথ্য

বগুড়ায় ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: ট্রাইব্যুনালে নতুন তথ্য, সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান"

🖋 প্রতিবেদক:
বুলবুল আহমেদ, বিডিএস

🇧🇩 বগুড়ায় ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে হত্যাচেষ্টা: ট্রাইব্যুনালে নতুন তথ্য, সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান

২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাজধানী বগুড়ার রামপুরা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশ কর্তৃক গুলি করে হত্যাচেষ্টা করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আমির হোসেন (১৮), যাকে পুলিশ গুলি করে গুরুতর আহত করে।

সাক্ষ্যগ্রহণের সময়

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। আমির হোসেন জানান, গুলির ভয়ে তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৪র্থ তলার ছাদে উঠে ছিলেন, যেখানে পুলিশ তার পিছু নিয়ে তাকে গুলি করে আহত করে। তিনি বলেন, "আমি ছাদের সঙ্গে একটি রড ধরে ঝুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ আমাকে নিচে ঝাঁপ দিতে বলে। এরপর তারা পিস্তল দিয়ে পরপর ৬ রাউন্ড গুলি করলে আমার পায়ে বিদ্ধ হয়।"

হামলার পরিণতি

তিনি আরও বলেন, "পুলিশদের গুলিতে আমার দুই পায়ে ৬টি গুলি লাগে, আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে ফেমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার পায়ের গুলিবিদ্ধ স্থান সেলাই ও ব্যান্ডেজ করা হয়। তারপর আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, এবং সেখানে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর আমাকে বনশ্রী এলাকার ফরাজী হাসপাতালে এবং পরে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুলিতে আমার পায়ের রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি অপারেশনও করতে হয়।"

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ

এদিন, বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আমির হোসেনের সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ছিলেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করা হয়।

আসামিদের গ্রেফতার

এই মামলায় ৭ আগস্ট ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। আসামিদের মধ্যে একমাত্র এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেফতার আছেন, বাকিরা পলাতক। চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

অন্যান্য অভিযোগ

আমির হোসেন আরো জানান, "আমি পরে জানতে পারি যে রামপুরা থানার ওসি, এএসআই চঞ্চল ও এসআই তরিকুল আমাকে গুলি করেছিল।" তিনি আরও বলেন, "এএসআই চঞ্চল ধরা পড়েছে, কিন্তু এসআই তরিকুল এখনও পালিয়ে আছে। যারা বিনা কারণে আমাকে গুলি করেছে, আমি তাদের শাস্তি চাই।"

হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

এদিকে, গত ২৮ অক্টোবর, জুলাই আন্দোলনে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আইনি জটিলতা

জেড আই খান পান্না, ইনুর পক্ষের আইনজীবী, বলেন, "প্রসিকিউশনের কাছে সময়ের আবেদন করা হয়েছে, তবে তাদের পড়াশোনা ও গবেষণা যথেষ্ট হয়নি। তারা এই মামলার স্টাডি করতে সময় পাননি।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, "ইনুর আইনজীবীদের কারাগারে ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি, যা ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করছে।"

সূত্রসমূহ

  1. "Bangladesh Political Violence and Human Rights Violations" - The Daily Star

  2. "Student Movements and Legal Actions in Bangladesh" - Dhaka Tribune

  3. "International Criminal Court and Human Rights Violations" - Wikipedia

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency