প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শীর্ষ পাঁচ নেতার সমন্বয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ইতোমধ্যে খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে।
সিলেট বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যিনি নিজেই আগামী রোববার (২০ অক্টোবর) গুলশান চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের সব মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।
এই বৈঠকে প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীর সাংগঠনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা, ভোটারসংযোগ এবং মাঠপর্যায়ের অবস্থান বিশদভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনে অন্তত ৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নের দাবিদার হিসেবে মাঠে রয়েছেন।
এই বিপুল সংখ্যক আগ্রহী প্রার্থী নিয়ে দলীয় ভেতরে প্রতিযোগিতা তীব্র আকারে ধারণ করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট–৪ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন—
“এটি দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বৈঠক। বিভাগের সব প্রার্থী অংশ নেবেন। বিএনপি বড় দল, তাই প্রার্থীও বেশি। তবে এতে কোনো বিভাজন হবে না। ধানের শীষের পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।”
সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল আহাদ খান জামাল জানান, তাঁকেও এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবার প্রার্থী যাচাইয়ে ডিজিটাল ডাটাবেজ, অনলাইন স্ক্রুটিনি এবং সোশ্যাল মিডিয়া বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
এই ব্যবস্থায় যাচাই করা হচ্ছে—
প্রার্থীদের অতীত রাজনৈতিক কার্যক্রম,
ভোটারসংযোগ ও স্থানীয় জনপ্রিয়তা,
সাংগঠনিক রিপোর্ট,
এবং অনলাইন ইমেজ/জনমত বিশ্লেষণ।
দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন—
“আমরা চাই স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক মনোনয়ন প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক পরিচিতি নয়, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাই হবে চূড়ান্ত মানদণ্ড।”
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রতিটি বিভাগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
দলীয় দায়িত্ব বণ্টন নিম্নরূপ—
| দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা | তত্ত্বাবধানে থাকা বিভাগ |
|---|---|
| তারেক রহমান (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) | কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ |
| মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর | সিলেট ও খুলনা বিভাগ |
| নজরুল ইসলাম খান | রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ |
| ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন | কুমিল্লা ও বরিশাল বিভাগ |
| সালাহউদ্দিন আহমেদ | ময়মনসিংহ বিভাগ |
দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি আসনে শুধুমাত্র একজন প্রার্থীই মনোনয়ন পাবেন।
তাঁর সরাসরি বার্তা—
“বিদ্রোহী প্রার্থী কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও নেতারা সক্রিয় থাকবেন।”
বিএনপির নেতারা বলছেন, এবার দলের মূল লক্ষ্য—
দ্বন্দ্ব এড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামা,
ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রার্থী বাছাই,
এবং জনগণের আস্থা ফেরানো।
দলের কৌশল অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগে “এক ভোট, এক প্রার্থী” নীতি অনুসরণ করা হবে, যাতে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা থেকে বিভাজন তৈরি না হয়।
সিলেটের এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন—
“সবার প্রতিযোগিতা কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের জন্য। ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এবার লক্ষ্য হবে জাতীয় ঐক্য ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রার্থী যাচাই এখনো তুলনামূলক নতুন প্রক্রিয়া।
বিএনপি এবার যে ডেটা–ভিত্তিক পদ্ধতি নিয়েছে, তা একধরনের “প্রার্থী প্রোফাইল অ্যানালিটিক্স সিস্টেম”, যেখানে ভোটার আচরণ, প্রার্থীর যোগাযোগ ইতিহাস এবং জনমত বিশ্লেষণ একত্র করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন—
এটি “নির্বাচনী তথ্যায়নের সূচনা”,
তবে সফল হতে হলে ভোটার রিয়েলিটি, স্থানীয় প্রভাব, ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা–এই তিন বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে।
এছাড়া বিদ্রোহী প্রার্থিতা ঠেকাতে কঠোর দলীয় শৃঙ্খলা অপরিহার্য।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির নতুন কৌশল স্পষ্ট—
তথ্যভিত্তিক প্রার্থী যাচাই, প্রযুক্তি–নির্ভর স্ক্রুটিনি, এবং মাঠে ঐক্যবদ্ধ প্রচারযুদ্ধ।
সিলেট বিভাগে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে রবিবারের বৈঠকই হবে দলের প্রথম বড় পরীক্ষা—যেখানে দেখা যাবে,
বিএনপি বাস্তবিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারছে কি না।
BNP begins candidate selection for 13th national election, Mirza Fakhrul leads Sylhet division — Prothom Alo, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
BNP to use digital scrutiny in nomination process — The Daily Star, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
Tarique Rahman monitors nomination progress via video link — Dhaka Tribune, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |