| বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে হামাস–ইসরাইল চুক্তি: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় শুরু

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2025 ইং
  • 3051160 বার পঠিত
ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে হামাস–ইসরাইল চুক্তি: গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় শুরু
ছবির ক্যাপশন: ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবে হামাস–ইসরাইল চুক্তি

ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি: হামাস–ইসরাইল সমঝোতা চূড়ান্ত, মুক্তি পেতে পারেন ‘দ্বিতীয় ইয়াহিয়া সিনওয়ার’ ইব্রাহিম হামেদ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা উপত্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও আগ্রাসনের অবসান ঘটাতে অবশেষে এক ঐতিহাসিক মোড় নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের ভিত্তিতে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়—

“গাজা যুদ্ধের অবসান, দখলদার সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সাহায্য প্রবেশ এবং বন্দি বিনিময়—এই চারটি মূল বিষয়ের ওপর চূড়ান্ত সমঝোতা হয়েছে।”


ট্রাম্পের মধ্যস্থতা: “এই চুক্তি মানবতার বিজয়”

ওয়াশিংটন থেকে ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন,

“গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এক মানবিক বিজয়।
দুই বছর ধরে যে অমানবিক হত্যাযজ্ঞ চলেছে, তার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিতভাবে ভূমিকা রাখছে।”

যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, তুরস্ক, এবং কাতার এই পরোক্ষ আলোচনায় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছে। আলোচনার শেষ রাউন্ডটি অনুষ্ঠিত হয় মিশরের শারম আল-শেখে, যেখানে ট্রাম্পের বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন।


সমঝোতার মূল ধারা

হামাসের বিবৃতি অনুযায়ী চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হলো—

  1. গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দখলদার সেনা প্রত্যাহার।

  2. আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশাধিকার।

  3. ইসরাইলি বন্দি ও ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়।

  4. অবরুদ্ধ এলাকার পুনর্গঠন ও ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা।

হামাস জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সংগঠনটি অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে “দায়িত্বপূর্ণ ও গুরুতর আলোচনা” করেছে।


আলোচনায় আলোচিত নাম: ইব্রাহিম হামেদ — “দ্বিতীয় ইয়াহিয়া সিনওয়ার”

আরব ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বন্দি বিনিময় আলোচনায় হামাসের শীর্ষ নেতা ইব্রাহিম হামেদের নামও রয়েছে।
তিনি পশ্চিম তীরে হামাসের প্রাক্তন সামরিক কমান্ডার, যাকে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত (Shabak) বর্ণনা করেছে

“ইয়াহিয়া সিনওয়ারেরও উপরের স্তরের কৌশলবিদ।”

সংক্ষিপ্ত পরিচয়

  • জন্ম: ১৯৬৫ সালে পশ্চিম তীরের সিলওয়াদ শহরে, রামাল্লাহ অঞ্চলে।

  • শিক্ষা: বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়, রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগ।

  • আন্দোলন: ১৯৯০ সাল থেকে হামাসের সামরিক কাঠামোতে সক্রিয়।

  • ১৯৯৮ সালে ইমাদ ও আদেল আওয়াদাল্লাহ শহীদ হওয়ার পর পশ্চিম তীরে ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

ইসরাইলি সূত্র মতে, হামেদ দ্বিতীয় ইন্তিফাদার (২০০০–২০০৫) সময়কার একাধিক সামরিক অভিযানের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি গ্রেফতার হন এবং ২০১২ সালে তাকে ৫৪ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


“অটুট পাথর” — স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ শিন বেত

হিব্রু দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ জানিয়েছে, হামেদকে

“অটুট পাথর (Unbreakable Stone)”
বলে আখ্যা দিয়েছে ইসরাইলের গোয়েন্দারা।

তাদের স্বীকারোক্তি—

“ইসরাইলি কারাগারে কখনো কোনো বন্দিকে ভাঙতে আমরা এতটা ব্যর্থ হইনি।”

তিনি ১৯ বছর ধরে একাকী বন্দিত্বে আছেন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাননি।
দীর্ঘ নির্যাতনে তাঁর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে, এবং হার্নিয়েটেড ডিস্ক-এর সমস্যায় ভুগছেন।


বন্দি বিনিময়: প্রথম ধাপেই বড় অগ্রগতি

সমঝোতা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে—

  • হামাস মুক্তি দেবে ২০ জন জীবিত ইসরাইলি বন্দিকে,

  • ইসরাইল মুক্তি দেবে ২,০০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দিকে,
    যার মধ্যে

    • ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত,

    • এবং ১,৭০০ জন গত দুই বছর ধরে আটক।

এই বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হবে।


যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে: মুসলিম নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক

গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি, এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সেখানেই গাজা যুদ্ধবিরতির কাঠামো ও মানবিক ত্রাণ করিডর নিয়ে একমত হন তারা।

এরদোগান বলেন,

“ফিলিস্তিন স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে,
কিন্তু এই যুদ্ধবিরতি অন্তত মানুষ বাঁচানোর প্রথম পদক্ষেপ।”


আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন,

“গাজায় অস্ত্রবিরতি মানে শুধু যুদ্ধের বিরতি নয়,
এটি মানবতার জন্য একটুকরো শ্বাস নেওয়ার সুযোগ।”

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীন এই চুক্তিকে “মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার সূচনা” বলে উল্লেখ করেছে।


উপসংহার

দীর্ঘ দুই বছরের হত্যাযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের পর
গাজার আকাশে এখন শান্তির সম্ভাবনার আলো দেখা যাচ্ছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক তৎপরতা ও আরব–মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান হয়তো এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—
যেখানে ফিলিস্তিনি রক্তের ওপর নয়, বরং মানবতার ওপর ভিত্তি করে নতুন মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি গড়ে উঠবে।

সূত্র

  1. Al Jazeera Arabic — “Hamas announces ceasefire framework with Israel based on Trump proposal”, ১০ অক্টোবর ২০২৫

  2. Yedioth Ahronoth (Hebrew) — “Ibrahim Hamed: The ‘Unbreakable Stone’ whose name returns in Gaza deal”, ৯ অক্টোবর ২০২৫

  3. Reuters / AFP — “Trump, Arab leaders broker ceasefire roadmap for Gaza”, ৯ অক্টোবর ২০২৫

  4. The Siasat Daily — “Hamas confirms agreement with Israel to end Gaza war, prisoner exchange included”, ১০ অক্টোবর ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency