| বঙ্গাব্দ

একক প্রার্থী নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে বিএনপি — তারেক রহমানের নির্দেশনায় দ্রুত ‘সবুজ সংকেত’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 10-10-2025 ইং
  • 3810586 বার পঠিত
একক প্রার্থী নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে বিএনপি — তারেক রহমানের নির্দেশনায় দ্রুত ‘সবুজ সংকেত’
ছবির ক্যাপশন: একক প্রার্থী নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

তৃণমূলের চাপ ও কেন্দ্রের নির্দেশনা: একক প্রার্থী নির্ধারণে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি এখন এক অভ্যন্তরীণ সংগঠনিক পরীক্ষার মুখোমুখি। তৃণমূল নেতারা কেন্দ্রকে সতর্ক করেছেন—দ্রুত আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে ‘সবুজ সংকেত’ না দিলে মাঠে দ্বন্দ্ব ও গ্রুপিং ভয়াবহ আকার নিতে পারে। এই বার্তা পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে দলটির নীতিনির্ধারকরা। তারা ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট আসনের নেতাদের ডেকে পাঠিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং অবাধ্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মাঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বার্তা: “দ্বন্দ্ব নয়, ঐক্য চাই”

অন্তত ২৫টি নির্বাচনি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী১০টি জেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি এখন তার পুরো মনোযোগ দিয়েছে “এক আসনে এক প্রার্থী” নীতিতে।

দলীয় নীতিনির্ধারকরা যুগান্তরকে জানিয়েছেন—

“ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমরা একক প্রার্থী বাছাইয়ে কাজ করছি। তফসিল ঘোষণার আগেই ৩০০ আসনের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশ আসনে মাঠে কাজের জন্য ‘সবুজ সংকেত’ দিতে চাই।”

এতে লক্ষ্য—তৃণমূলের বিভক্তি ও গ্রুপিং দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা।

কেন্দ্রের নির্দেশনা: অবাধ্য হলে কঠোর ব্যবস্থা

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে একক প্রার্থীকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া হলে অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ওই প্রার্থীকে সমর্থন করে একযোগে প্রচারণায় নামতে হবে।

“যারা নির্দেশনা মানবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”—এমনই নির্দেশ গেছে গুলশান কার্যালয় থেকে।

দলীয় সূত্র বলছে, যেসব আসনে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি বা জটিলতা রয়েছে, সেখানে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার ও মনস্তাত্ত্বিক যাচাই শুরু হয়েছে। অনেককেই ইতোমধ্যে ডেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি একমুখী রাখেন।

একক প্রার্থী বাছাইয়ের মানদণ্ড

দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, একক প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে—

  • স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা

  • আন্দোলন ও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ

  • নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা ও আর্থিক প্রস্তুতি

  • তরুণ ও নারী ভোটারদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা

  • সামাজিক যোগাযোগ ও তৃণমূল পর্যায়ে প্রভাব

যেসব আসনে একাধিক জনপ্রিয় প্রার্থী আছেন, সেখানে একজনকে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়ে বাকিদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে—ক্ষমতায় গেলে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। ফলে মনোনয়ন নিয়ে বড় কোনো সংঘাত হবে না বলেই কেন্দ্রের ধারণা।

সালাহউদ্দিন আহমদের ইঙ্গিত: “সবুজ সংকেত আসছে”

দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন,

“শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার জন্য আমরা ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেব। তবে সেটা চূড়ান্ত নয়। তফসিল ঘোষণার পর পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন,

“প্রতিটি আসনে আমাদের একাধিক যোগ্য প্রার্থী আছেন—কেউ পাঁচজন, কেউ সাতজন, কেউ দশজন পর্যন্ত। তাই এটা একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।”

তারেক রহমানের নির্দেশনা: “জনসম্পৃক্ত নেতাকেই অগ্রাধিকার”

দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেই পুরো মনোনয়ন প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দিয়েছে।
সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন,

“মনোনয়ন সেই ব্যক্তিকেই দেওয়া হবে, যিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাদের সমস্যা জানেন এবং সমাধানের সক্ষমতা রাখেন। তরুণ, নারী, ছাত্র, মুরুব্বি—সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে যার যোগাযোগ আছে, তিনিই আমাদের প্রার্থী হবেন।”

তার এই বক্তব্য বিএনপির মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে ‘জনসম্পৃক্ততার মাপকাঠি’ হিসেবে নতুন মানদণ্ড তৈরি করেছে।

ড. খন্দকার মোশাররফ: “বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত”

দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,

“আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি পুরোপুরি প্রস্তুত। একক প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরা শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

বিশ্লেষণ: কেন এই ‘সবুজ সংকেত’ কৌশল জরুরি

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি এবার মাঠে আগেভাগেই প্রার্থী চূড়ান্ত করে দলীয় শৃঙ্খলা ও জনসংযোগে সমন্বয় আনতে চায়।

🔹 দলীয় ঐক্য: আগেভাগে সংকেত দিলে গ্রুপিং কমবে, ঐক্যবদ্ধ ক্যাম্পেইন সম্ভব হবে।
🔹 সংগঠনিক তৎপরতা: প্রার্থীরা আগাম তৃণমূল সংগঠনের প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
🔹 নির্বাচনী গতি: প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রচারণায় সুবিধা পাওয়া যাবে।
🔹 বিরোধ কমানো: যারা বাদ পড়বেন, তাঁদের ভবিষ্যতে দলীয় দায়িত্ব বা মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।


উপসংহার

তৃণমূলের চাপ, অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, এবং নির্বাচনের ঘনঘটায় বিএনপি এখন বাস্তববাদী পথে হাঁটছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটির মনোযোগ এখন “যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত প্রার্থী” নির্বাচনের দিকে। আর কেন্দ্রীয় হুঁশিয়ারি ইঙ্গিত দিচ্ছে—দল এবার শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাশত করবে না।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেখা যাবে, বিএনপি কি সত্যিই তৃণমূল ঐক্য ধরে রাখতে পারে, নাকি প্রার্থী-দ্বন্দ্বই তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সূত্র

  1. Jugantor — “যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ বিএনপির, গ্রুপিং বন্ধে দ্রুত একক প্রার্থী চায় তৃণমূল”, ৯ অক্টোবর ২০২৫

  2. Dhaka Tribune — “BNP to give ‘green signal’ to single candidates before polls schedule”, ১০ অক্টোবর ২০২৫

  3. BBC Bangla — “Tarique Rahman outlines nomination strategy based on public connection”, ৮ অক্টোবর ২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency