সরকার নয়, মালিকরাই শ্রমিকদের বেতন দেবে: শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরকার শ্রমিকদের বেতন প্রদান করবে না, বরং মালিকদেরই বেতন প্রদানের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে—এ কথা জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীতে আয়োজিত “শ্রমখাতে টেকসই সংস্কার” শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
“শ্রমিকদের বেতন রাষ্ট্র দেবে—এ ধারণা ভুল। সরকার কেবল নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন করবে। কিন্তু মালিকরাই শ্রমিকদের প্রকৃত নিয়োগকর্তা, তাই তাদেরই বেতন প্রদানের দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“শ্রম আইন সংস্কারে সরকার এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সংস্কার কার্যকর হলে শ্রম খাতে একটি টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে।”
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “কোনো শ্রমিক অবেতনভুক্ত থাকবে না, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ সচেতন।”
সরকার ২০২3 সালে ঘোষিত শ্রমনীতি-সংশোধন কর্মপরিকল্পনা (Labour Law Reform Plan 2023) অনুযায়ী শ্রম আইন পুনর্বিন্যাসের কাজ করছে।
সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক উন্নয়ন, কর্মস্থলে নিরাপত্তা, নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং বেতন কাঠামোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী:
মালিকদের জন্য “Mandatory Wage Protection Account (WPA)” চালু হবে, যেখানে প্রতিটি বেতন লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে স্বচ্ছভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
বকেয়া বেতন বা মজুরি বিলম্বিত হলে শ্রম মন্ত্রণালয় পর্যবেক্ষণ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে জরিমানা বা উৎপাদন স্থগিতের ক্ষমতা পাবে।
“No Work, No Pay” নীতি সীমিতভাবে প্রযোজ্য হবে, তবে শ্রমিকদের ধর্মঘটের অধিকার বজায় থাকবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ঘোষণা রাষ্ট্রের আর্থিক দায় হ্রাস ও বেসরকারি খাতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরিন হক বলেন,
“সরকার যদি শ্রমিক বেতন খাতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা না রাখে, তাহলে বাজেটের চাপ কমবে, তবে শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিতে মালিকদের উপর কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. রিয়াজ আহমেদ বলেন,
“বেতন প্রদানে মালিকদের দায় নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানের একটি পদক্ষেপ, তবে এটি বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ তদারকি ব্যবস্থা না থাকলে শ্রমিক বঞ্চনা বাড়বে।”
বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বলেছেন, সরকারের বক্তব্যে নিরপেক্ষ মনিটরিং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিনা খাতুন বলেন,
“আমরা চাই মালিকরা বেতন দিক, কিন্তু সরকারেরও দায়িত্ব থাকে তা সময়মতো হচ্ছে কিনা তা দেখা। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিতে মনিটরিং জোরদার করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)–এর সুপারিশ অনুযায়ী, শ্রমিকদের বেতন প্রদানে রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি নয় বরং ‘Employer Accountability Model’–ই অধিক কার্যকর।
বাংলাদেশ যদি এই মডেলটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে:
বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়বে,
গার্মেন্টস ও শিল্পখাতে শ্রম মানোন্নয়ন ঘটবে,
এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের এই বক্তব্য শ্রমনীতি সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করেছে।
এর মাধ্যমে সরকার বেসরকারি খাতের আর্থিক দায়িত্ব পুনর্বণ্টন স্পষ্ট করেছে, তবে একই সঙ্গে শ্রমিক অধিকারের নিশ্চয়তার জন্য আরও কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাও উঠে এসেছে।
“Govt won’t pay workers, employers must: Labour adviser” — The Business Standard, ৮ অক্টোবর ২০২৫
“Bangladesh labour law reform in final stage” — Dhaka Tribune, ৭ অক্টোবর ২০২৫
“ILO guidelines on wage protection and employer responsibility” — ILO Report 2024
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |