ইনশাআল্লাহ নির্বাচনে অংশ নেব”— দেশে ফেরার ঘোষণা তারেক রহমানের, প্রধানমন্ত্রী প্রসঙ্গে বললেন যা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নেবেন এবং দেশে ফিরে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন,
“সেটি তো নেব, কেন নিব না? অবশ্যই নিব। ইনশাআল্লাহ।”
এটি তার প্রথম প্রকাশ্য ঘোষণা— ২০০৮ সালে লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে যাওয়ার পর থেকে যে রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছিল, তার জবাব যেন এবার নিজেই দিলেন তিনি।
২০০৭ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, জেলে থাকা অবস্থায় তাকে “অমানবিক নির্যাতন” করা হয়েছিল।
পরে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলেও সরকারি চাপ ও নিরাপত্তা উদ্বেগে তিনি দেশে ফিরতে পারেননি।
তবে বিদেশে থেকেও তিনি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন এবং গত দেড় যুগে দলের রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও কৌশলগত সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” এবং শেখ হাসিনার পলায়নের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরে তারেক রহমানের ভূমিকা ছিল “কেন্দ্রীয় ও প্রভাবশালী”।
বিএনপি সূত্র জানায়,
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭০ শতাংশ আসনের প্রার্থী তালিকা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।
তারেক রহমান দেশে ফিরে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ও প্রার্থী ঘোষণার তদারকি করবেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে তাকে “জাতীয় ঐক্যের নেতৃত্বদাতা” হিসেবে তুলে ধরার উদ্যোগ চলছে।
দলের একাধিক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, মামলাগুলো থেকে তারেক রহমান ইতোমধ্যে অব্যাহতি পেয়েছেন, ফলে তার দেশে ফেরার আইনগত কোনো বাধা নেই।
সাক্ষাৎকারে যখন তাকে প্রশ্ন করা হয়—
“আপনাকে কি আমরা প্রধানমন্ত্রী পদের প্রত্যাশী হিসেবে দেখতে পাবো?”
তারেক রহমান বলেন,
“আমি একজন রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মী।
নির্বাচন মানে জনগণের সম্পৃক্ততা— সেখানে আমি নিজেকে দূরে রাখতে পারবো না। আমাকে আসতেই হবে। স্বাভাবিকভাবেই মাঠে থাকবো ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রশ্নটি আমার নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত নিবে জনগণ এবং দল।”
তারেক রহমানের এই সংযত কিন্তু দৃঢ় বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা “ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন,
“দীর্ঘ দেড় দশক পর দলের নেতা দেশে ফিরছেন— এটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্যও নতুন সূচনা।”
দলের তরুণ নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে
বিএনপি নতুন করে নেতৃত্ব পুনর্গঠন করবে,
তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটবে,
এবং ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে “গণমানুষের আশার প্রতীক” হিসেবে তার উপস্থিতি ভূমিকা রাখবে।
| বছর | ঘটনা | প্রেক্ষাপট |
|---|---|---|
| ১৯৬৭ | জন্ম | জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় পুত্র |
| ২০০১–২০০৬ | রাজনৈতিক উত্থান | বিএনপি সরকারের সময় “হাওয়া ভবন” কে কেন্দ্র করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু |
| ২০০৭ | গ্রেপ্তার | দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার ও জেলে নির্যাতনের অভিযোগ |
| ২০০৮ | লন্ডনে প্রস্থান | চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা, পরে নির্বাসিত জীবন শুরু |
| ২০১৮–২০২৪ | বিদেশে থেকেও সক্রিয় | ভিডিও কনফারেন্সে দলীয় নির্দেশনা ও আন্দোলন সংগঠন |
| ২০২৪ | জুলাই গণঅভ্যুত্থান | শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিএনপির উত্থান |
| ২০২৫ | দেশে ফেরার ঘোষণা | ত্রয়োদশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও মাঠে থাকার প্রতিশ্রুতি |
রাজনৈতিক ভারসাম্য পুনর্গঠন:
আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপির একক নেতৃত্ব এখন আরও দৃঢ় হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া:
যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র তারেক রহমানের ফেরাকে “গণতান্ত্রিক স্বাভাবিক প্রক্রিয়া” হিসেবে দেখছে।
দলীয় ঐক্য ও তরুণ নেতৃত্বের উত্থান:
তার উপস্থিতি বিএনপির ভেতরে থাকা বিভাজন কমাবে এবং তরুণদের রাজনীতিতে টানবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আলমগীর কবির বলেন,
“২০০৮ সালে নির্বাসিত হওয়া তারেক রহমান ২০২৫-এ ফিরে এলে এটি শুধু রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণ পুনর্গঠনের সূচনা।”
বিএনপি কেন্দ্রীয় দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ৬ অক্টোবর ২০২৫
The Guardian – Exiled BNP leader Tarique Rahman plans return to Bangladesh ahead of polls (2025)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |