পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর আইএইএ সহযোগিতা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ঘোষণা করল ইরান: আরাকচি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
পশ্চিমা দেশগুলোর পুনর্বহাল করা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সহযোগিতা এখন আর “প্রাসঙ্গিক নয়”। রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন,
“আইএইএ’র সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার জন্য করা কায়রো চুক্তি আর কার্যকর নয়।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে তেহরান কার্যত জানিয়ে দিয়েছে, পশ্চিমা চাপের মুখে তাদের পারমাণবিক তদারকি ও কূটনৈতিক সহযোগিতার পথ আপাতত স্থগিত।
গত আগস্টে ইরান ও আইএইএ’র মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল— তেহরান যদি সাময়িকভাবে সহযোগিতা স্থগিতও করে, সংস্থাটি চাইলে পরিদর্শন ও নজরদারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে পারবে।
কিন্তু সেই চুক্তি ভেস্তে যায় যখন ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি— ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির তিন প্রধান স্বাক্ষরকারী— ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে।
তাদের অভিযোগ, তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মাত্রা সীমার বাইরে নিয়ে গেছে এবং পারমাণবিক কার্যক্রম গোপনে বিস্তৃত করছে।
ইরান এই অভিযোগ ‘রাজনৈতিক ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরানে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে আরাকচি বলেন,
“তিনটি ইউরোপীয় দেশ মনে করেছিল তাদের হাতে একটি চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার আছে। তারা সেটি ব্যবহার করেছে— এখন নিজেরাই সেই চাপের ফাঁদে পড়েছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এখন থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকা অনেক ক্ষুদ্র হয়ে যাবে।”
আরাকচির মতে, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুধু অর্থনৈতিক নয়— এটি ইরানের “বৈধ উন্নয়ন অধিকার” কে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে আইএইএ’র প্রতি দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগের অভিযোগ করে আসছে।
তাদের দাবি— পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) আওতায় থাকা সত্ত্বেও সংস্থাটি ইসরাইলের পারমাণবিক হামলা ও উস্কানিমূলক কার্যক্রমের নিন্দা করেনি, যা “স্পষ্ট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ”।
ইরানের সংসদের একাধিক সদস্য এনপিটি থেকে পুরোপুরি সরে আসার প্রস্তাব তুলেছেন।
তবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান এখনই এনপিটি ত্যাগ করবে না, বরং কূটনৈতিক উপায়ে অবস্থান পরিষ্কার করবে।
২০২৪ সালের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
এরপর থেকে তেহরান আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত রাখে।
চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিস্তৃত পারমাণবিক চুক্তি পুনরুজ্জীবনের আলোচনা চলছিল, কিন্তু জুনের ওই হামলার পর তা স্থবির হয়ে যায়।
আরাকচি বলেন,
“আমরা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করিনি। আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, বেসামরিক এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত।”
ইরানের মতে, ইসরাইলের কাছে অন্তত এক ডজন পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, যদিও তেলআবিব কখনো তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে,
পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের অর্থনীতি যেমন চাপে পড়বে,
তেমনি আইএইএ’র পরিদর্শন বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব পারমাণবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অন্ধকারে থাকবে।
তেহরানের এই ঘোষণা ভবিষ্যতের আলোচনার ক্ষেত্র আরও কঠিন করে তুলবে।
তবে আরাকচি ইঙ্গিত দিয়েছেন,
“কূটনীতির দরজা এখনো খোলা আছে।”
অর্থাৎ, ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর ‘আচরণ পরিবর্তন’ দেখতে চায়— তার পরই তারা আইএইএ’র সঙ্গে সহযোগিতা পুনরায় শুরু করতে পারে।
১৯৫৩: যুক্তরাষ্ট্র–ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় মোহাম্মদ মোসাদ্দেক সরকারের পতন।
১৯৭৯: ইরান বিপ্লব— শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভীর পতন, আয়াতুল্লাহ খোমেনির ক্ষমতা গ্রহণ।
২০০২: নাতাঞ্জ ও আরাক পরমাণু স্থাপনার খবর ফাঁসের পর পশ্চিমা উদ্বেগ শুরু।
২০১৫: ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (JCPOA)’ স্বাক্ষরিত হয়— ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে।
২০১৮: ডোনাল্ড ট্রাম্প JCPOA থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন; নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়।
২০২4: ইসরাইলের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত; পরিদর্শন স্থগিত।
২০২৫: তেহরান ঘোষণা করে— “আইএইএ সহযোগিতা আর প্রাসঙ্গিক নয়।”
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |