প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে বিএনপির পরেই জামায়াতকে দ্বিতীয় অবস্থানে দেখা যাচ্ছে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে শিবির-সমর্থিত প্যানেলের বড় ধরনের সাফল্য এই আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’–এর লেখক অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিশেষ ধারাবাহিক ‘পূর্বের হাওয়া: পর্ব–৩’–এ একটি অনামা মার্কিন কূটনৈতিক সূত্র উদ্ধৃত করে জামায়াতকে ‘পছন্দের’ পেছনে পাঁচটি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে—(১) নেতৃত্বের উচ্চশিক্ষা ও বাণিজ্যিক সফলতা, (২) ভদ্র–সভ্য আচরণ ও কথোপকথনের সুবিধা, (৩) অতীতে নিপীড়নের শিকার হওয়া, (৪) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা, (৫) তালেবানঘেঁষা নয় বরং তুলনামূলক ‘প্রগতিশীল’ ইসলামি রাজনীতি। লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫। উৎসটি কূটনীতিকের নাম প্রকাশ করেনি—এই সীমাবদ্ধতাও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
৩৩ বছর পর হওয়া জাকসু নির্বাচনে জিএস ও দু’টি এজিএস পদে শিবির–সমর্থিত প্রার্থীদের জয়, ভিপি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত—এ ফলকে অনেকেই শিবিরের সাংগঠনিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ ও যুগান্তর—তিনটি মাধ্যমেই ফলের এই চিত্র উঠে এসেছে; প্রথাগত নেতিবাচক ধারণা বদলাতে শিবিরের ক্যাম্পাস–কৌশল নিয়েও বিশ্লেষণ রয়েছে।
সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে দেখা যায়, ভোটাভুটির সম্ভাব্য চিত্রে বিএনপির পর জামায়াত, কিছু প্রতিবেদনে জামায়াতের জনপ্রিয়তা তরুণ ও নারীদের অংশে তুলনামূলক বেশি—এমন পর্যবেক্ষণও এসেছে। (সুনির্দিষ্ট নমুনা–পদ্ধতি ও সংগঠকের নাম সব প্রতিবেদনেই সমানভাবে স্পষ্ট নয়—এটি একটি সীমাবদ্ধতা।)
ক্যাম্পাস রিবুট = জাতীয় রাজনীতির সংকেত?
জাকসুতে শিবির–সমর্থিতদের সাফল্য রাজনৈতিক সেন্টিমেন্টকে প্রভাবিত করেছে। ২০১৯–এর পর (ডাকসু) বহু বছর বন্ধ থাকা ছাত্র–সংসদ রাজনীতিতে নতুন খেলোয়াড়দের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাকসুর ফলকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ‘ইসলামি ভোটব্যাংক’ নিয়ে পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে।
জরিপ–প্রতিবেদনগুলো কী বলছে?
ঢাকা মেইল ও যাযাদিনের রিপোর্টে বিএনপির লিডের পর জামায়াত ২য়, এনসিপি ছোট কিন্তু দৃশ্যমান; প্রার্থী–ভিত্তিক ভোট দেওয়ার প্রবণতাও উঠে এসেছে। তবে জরিপের মান্যতা বোঝার জন্য নমুনা–আকার, এলাকার বণ্টন, প্রশ্ন–ফ্রেমিং—এসব তথ্য সর্বত্র সমানভাবে প্রকাশিত হয়নি। পাঠকেরা এই সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে ব্যাখ্যা করলে ভালো।
বিদেশি অভিব্যক্তি—এজেন্ডা নাকি পর্যবেক্ষণ?
‘এই সময়’–এ উদ্ধৃত অনামা মার্কিন কূটনীতিকের পাঁচ যুক্তি রাজনৈতিক আলোচনাকে উসকে দিলেও, নাম/পদবি–অনধিকারযোগ্য সূত্র হওয়ায় তা সরাসরি নীতিগত অবস্থান প্রমাণ করে না—বরং কূটনৈতিক মহলের একটি দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে পড়াই সঙ্গত।
বাংলাদেশে ২০২৫–এর সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের আগে জোট–রাজনীতি, প্রতীক–রাজনীতি, ছাত্র–রাজনীতির পুনর্বিন্যাস—সব মিলিয়ে ভোট–আবহে অস্থিরতা ও নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, নিবন্ধন–প্রশ্ন, এবং জনমত–সমীক্ষার ওঠানামা—এই তিনটি ট্র্যাক একসঙ্গে চলার ফলে ‘উত্থান’–পাঠকে কেউ ইতিবাচক, কেউ সংশয়ী চোখে দেখছে। (আইনগত অবস্থান বিষয়ে যেকোনো পরিবর্তন হলে তা কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নোটিস/আদালতের নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল।)
এই সময় (Ei Samay)—“পূর্বের হাওয়া: পর্ব ৩—ইসলামি জোট গড়ে জয়ী হতে কি পারবে জামায়াত” (অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়; ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
প্রথম আলো—জাকসু নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত জোটের বিজয় বিশ্লেষণ।
কালের কণ্ঠ—জাকসুর ফল–তালিকা/সারাংশ।
যুগান্তর—“জাকসুতেও শিবিরের বিজয়”—ফল/প্রতিক্রিয়া।
ঢাকা মেইল—“ভোটের নতুন জরিপে এগিয়ে বিএনপি, পরের অবস্থানেই জামায়াত”।
যাযাদি—“আ.লীগহীন নির্বাচনে বিএনপি ৪৫%, জামায়াত ৩৩%”—জরিপ–রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |