| বঙ্গাব্দ

ভোটের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম—ইউএনডিপির মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে ক্রয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-09-2025 ইং
  • 4123028 বার পঠিত
ভোটের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম—ইউএনডিপির মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে ক্রয়
ছবির ক্যাপশন: ভোটের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম

ভোটের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম: ইউএনডিপির মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত, সরকারি অর্থায়ন

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ


জাতীয় নির্বাচনের আর বেশি সময় নেই। নির্বাচনী ডিউটির স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বাড়াতে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ক্যামেরাগুলো ইউএনডিপির মাধ্যমে কেনা হবে এবং সরকারের নিজস্ব অর্থায়নেই ব্যয় মেটানো হবে।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বডিক্যাম প্রয়োজন হবে। মান ও দামের নিশ্চয়তার কারণে সরাসরি স্থানীয় টেন্ডারের বদলে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হবে—যেমন টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে আনা হয়। এতে মান-মূল্য নিয়ে কোনো আলোচনার (নেগোশিয়েশন) প্রয়োজন হবে না এবং বিতর্ক এড়ানো যাবে। খরচের সুনির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও নির্ধারিত হয়নি। 

বৈঠকে আরও জানানো হয়, এই বডিক্যামের অর্থায়ন নির্বাচনী ব্যয় খাত থেকে করা হবে; সরাসরি পুলিশ বাহিনীকে সরঞ্জাম দেওয়া হলেও উদ্দেশ্য হলো ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষা-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডকে নথিবদ্ধ করা।

কেন এখন বডিক্যাম

  • স্বচ্ছতা ও প্রমাণসংগ্রহ: ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের ঘটনাপ্রবাহ ভিডিওতে ধরা থাকবে; পরে তদন্ত বা অভিযোগ যাচাই সহজ হবে। আন্তর্জাতিকভাবে বডিক্যাম ব্যবহারে বলপ্রয়োগ-সংক্রান্ত অভিযোগ কমার নজির আছে। (প্রাসঙ্গিক বৈশ্বিক চর্চার প্রেক্ষিত)

  • অপারেশনাল মানোন্নয়ন: রিয়েল-টাইম সুপারভিশন, কন্ট্রোল রুমে ফিড সমন্বয়, ঘটনাস্থল-ভিত্তিক ট্রেনিং ডেটা তৈরি ইত্যাদি সম্ভব।

  • জনআস্থা: দৃশ্যমান রেকর্ডিংয়ের কারণে ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তাবোধ বাড়ে; দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয়।

বাস্তবায়নের করণীয় (নীতিগত প্রস্তাব)

  1. ডেটা গভর্ন্যান্স নীতি: রেকর্ডিং সংরক্ষণ-সময়সীমা, এক্সেস-কন্ট্রোল, চেইন-অফ-কাস্টডি, মেটাডেটা অখণ্ডতা—এসব স্পষ্ট হতে হবে।

  2. প্রাইভেসি প্রটোকল: ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, সংবেদনশীল স্থানে রেকর্ডিং-নিয়ম, ব্লারিং/রিড্যাকশন নীতিমালা।

  3. ইন্টারঅপারেবিলিটি: নির্বাচনী কন্ট্রোল রুম, সিসিটিভি ও মোবাইল কমান্ড ইউনিটের সঙ্গে বডিক্যাম-ফিড ইন্টিগ্রেশন; স্টোরেজ-স্কেলিং ও ব্যাকআপ।

  4. ট্রেনিং ও SOP: ক্যামেরা চালু-বন্ধের মানদণ্ড, ঘটনার ধরণভেদে ট্যাগিং, অননুমোদিত মুছে-ফেলা রোধে টেম্পার-প্রুফ ব্যবস্থা।

  5. পাবলিক রিপোর্টিং: নির্বাচনের পরে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় (after-action review) বডিক্যাম-ডেটা ব্যবহারের সারাংশ প্রকাশ।

আজকের ঘোষণার প্রেক্ষাপট

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এর আগের দিন নিউইয়র্কে বৈঠকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির কথা জানান। বডিক্যাম কেনার সিদ্ধান্তটি সেই প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা বলেই দেখা হচ্ছে। 

সূত্র

  1. প্রথম আলো — “আগামী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার ‘বডি ক্যামেরা’ কিনছে সরকার,” ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। 

  2. ইত্তেফাক — “ইউএনডিপির মাধ্যমে ৪০ হাজার বডি ক্যামেরা কেনা হচ্ছে: অর্থ উপদেষ্টা,” ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। 

  3. বিডিনিউজ২৪ (বাংলা) — “ভোটের নিরাপত্তায় কেনা হচ্ছে ৪০ হাজার বডিক্যাম,” ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও
     খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency