ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই নির্বাচন হবে: অধ্যাপক মুহাম্মাদ ইউনূসের ঘোষণায় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার “বিস্তৃত প্রস্তুতি” নিচ্ছে।
তিনি এই মন্তব্য করেন ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর-এর সঙ্গে বৈঠকে।
উক্তসময় তিনি বলেন:
“নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে।”
নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ।
দেশ পুরোপুরি প্রস্তুত আছে।
বৈঠকে স্থানীয় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর আলোচনা হয়েছে:
সার্জিও গোরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন অধ্যাপক ইউনূস এবং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আলোচনা হয়েছে বাণিজ্য, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্ক (SAARC)-এর পুনরুজ্জীবন, রোহিঙ্গা সংকট, এবং ঢাকাকে লক্ষ্য করা ভ্রান্ত তথ্য প্রচার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।
কক্সবাজারে বসবাসরত এক মিলিয়ন (১০ লাখেরও বেশি) রোহিঙ্গার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত জীবনরক্ষাকারী সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সার্ক প্রায় এক দশকের বেশি সময় ধরে শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে পারেনি; প্রধানমন্ত্রী সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকার এ সংস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জোর প্রচেষ্টা করে চলছে।
বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্তি ও আসিয়ান (ASEAN)-এ যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অধ্যাপক ইউনূস।
নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বৈঠকের শেষে অধ্যাপক ইউনূস সার্জিও গোরকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝা জরুরি। নীচে কিছু মূল ঘটনা ও প্রেক্ষাপট:
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন হয়, যা গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, ন্যায় এবং মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল।
১৯৭৫ সালে অভ্যুত্থান ও স্বৈরশাসন, পরে সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কাল।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরায় চালু হয়; নির্বাচনী সরকার গঠন ও বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
২০০৭-২০০৮-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন ও রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ক চাপ, নির্বাচন কমিশন, বিচারবিভাগ ও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের স্বাধীনতার প্রশ্ন।
২০২৪-এ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে; শেখ হাসিনা সরকার চলে যায় এক অভ্যুত্থান ও সরকার পরিবর্তন হয়; অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব গ্রহন করেন “অন্তর্বর্তী সরকার” প্রধান উপদেষ্টার হিসেবে।
সেই বছরের পর থেকে বাংলাদেশ ASEAN-এ যোগদানের প্রচেষ্টা শুরু করে এবং অনেক আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক দিবস ও ফোরামে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তোলা হয়েছে।
১. নির্বাচন-তারিখ নিয়ে নির্ধারিত হতেই পারে: অধ্যাপক ইউনূস স্পষ্ট করে বলছেন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবে এবং দেশের প্রস্তুতি পুরোপুরি চলছে। এটি একটি নির্ধারিত সময়সূচির প্রতিফলন; তবে বাস্তবায়ন, নির্বাচন কমিশন, বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ, পর্যবেক্ষণকারক ও নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রস্তুতিও যাচাইযোগ্য হবে।
২. আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান: যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট, সার্ক-পুনরায় জীবিতকরণ ও আসিয়ানে যোগদান বিষয়ে আগ্রহ, সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিদেশনীতি ও আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন রূপ নিচ্ছে।
৩. ভ্রান্ত তথ্য ও তথ্যযুদ্ধের বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে: তথ্যপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যকে লক্ষ্য করে আলোচনা করা হয়েছে, যা ই-অবকাঠামো, সামাজিক মিডিয়া ও মিডিয়া স্বাধীনতার শক্তির প্রমাণ হতে পারে।
৪. আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য, নেপাল ও ভুটান-এর সঙ্গে সম্পর্ক বাড়িয়ে বাংলাদেশ সম্ভাব্য নতুন বাজার, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সংযোগ পাবে; আসিয়ান অংশগ্রহণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন দিগন্ত খুলতে পারে।
৫. নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন: “অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ” নির্বাচন প্রতিশ্রুতি হলেও, নির্বাচন কমিশন, বিচারবিভাগ ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণ, নিরাপত্তা ও ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন, ন্যায্য ও নিরপেক্ষ মনিটরিং ব্যবস্থাগুলো শক্তিশালী করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভোটারদের নিরাপত্তা ও ভোট কেন্দ্রে বাধা-বিপত্তি বন্ধ করা প্রয়োজন হবে।
বিরোধীদল ও জনগণকে ব্যাপক অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে যেন নির্বাচন প্রতি-নিয়ন্ত্রিত বা পক্ষপাতদুষ্ট না হয়।
প্রচারণামূলক কাজের সময় মিডিয়া স্বাধীনতা ও সততা নিশ্চিত করা জরুরি।
রোহিঙ্গা সংকট, সার্ক পুনরুজ্জীবন ও আসিয়ানে যোগদানের মতো বিষয়গুলো কেবল কূটনীতি নয়, বাস্তব উন্নয়ন ও উদার নীতি ভিত্তিক হওয়া উচিত।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের ঘোষণায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক আলোড়ন ডেকে আনতে পারে। তবে যে যা বলছেন, তার বাস্তবায়ন কতটুকু হবে, তার মানে হচ্ছে জনগণের আস্থা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা-নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সব মিলিয়ে কাজ করবে কি না। যদি প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়, তবে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে – যেখানে নির্বাচন নিজেই গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে, শুধুমাত্র তত্ত্ব নয়, বাস্তবতায়।
“ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: প্রধান উপদেষ্টা,” ইত্তেফাক ডিজিটাল, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫। “ফেব্রুয়ারিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে : প্রধান উপদেষ্টা,” বাংলানিউজ২৪.কম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
“ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার,” জাগো নিউজ২৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |