প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রোববার বিকেলে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশন–সময়সূচি ও শ্রম আইন সংশোধন—এই তিনটি ইস্যুতে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, “দেশি–বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত বড় সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন,” এবং ব্যবসায়ী পক্ষের প্রধান উদ্বেগ দুটি—এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও শ্রম ইস্যু।
বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ব্যবসায়ীদের পক্ষে ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, এমসিসিআই সভাপতি কামরান তানভিরুর রহমান, সাবেক সভাপতি তপন চৌধুরী ও নাসিম মনজুর, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি একে আজাদ, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি এমএ হাতেম, বিইএফ সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, বিজেএমইএ মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদসহ ১১ জনের প্রতিনিধি দল। (উপস্থিতির তথ্য বৈঠক–সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক পরিচিতি অনুযায়ী; এমসিসিআই ২০২৫ সালের বর্তমান সভাপতির পরিচয় আলাদা সূত্রে যাচাইকৃত।)
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন–স্পষ্টতা না এলে নতুন বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত ঝুলে থাকবে। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মূল্যায়ন মিলে যায়—তারাও বলেন, নীতির ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক স্থিতি ছাড়া রপ্তানি–বাজারে প্রতিযোগিতা, ঋণের খরচ, ও কাঁচামালের সরবরাহ–শৃঙ্খল স্থিতিশীল করা কঠিন।
জাতিসংঘের সিডিপি (CDP)–এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ২৪ নভেম্বর ২০২৬–এ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণে নির্ধারিত পথে আছে; ২০২১–২০২৬–এর প্রস্তুতি পর্ব চলছে। কিন্তু ব্যবসায়ী–নেতাদের যুক্তি—অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, উচ্চ শুল্ক–ঝুঁকি, প্রেফারেন্স হারানো, এবং গ্লোবাল ডিমান্ড–স্লোডাউন–এর মধ্যে হঠাৎ উত্তরণ রপ্তানি–প্রতিযোগিতায় ধাক্কা দিতে পারে। তাই ‘উত্তরণ বাতিল নয়, বরং ২–৩ বছর টাইমিং–অ্যাডজাস্টমেন্ট বা স্মুথ ট্রানজিশন–কৌশল’ চাওয়া হয়েছে; বিএনপি–পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক উত্তরণ ব্যবসা–বিনিয়োগের পক্ষে না–ও হতে পারে—এ মূল্যায়ন দেওয়া হয়।
কেন বিষয়টি জরুরি?
এলডিসি–পরবর্তী সময়ে ইইউ, কানাডা, জাপানসহ প্রধান বাজারে নন–রেসিপ্রোকাল প্রেফারেন্স ধীরে ধীরে কমবে/শেষ হবে; পোশাকশিল্প–নির্ভর রপ্তানিতে এমএফএন শুল্ক তুলনামূলক বেশি—ফলে মার্জিন সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা। সমাধানপথ হিসেবে GSP+ বা FTA–কম্প্যাক্ট, উৎপাদনশীলতা–বৃদ্ধি, এবং টারিফ–ইঞ্জিনিয়ারিং–এর নীতিপথ দ্রুত নির্ধারণ দরকার—এমন সুপারিশ আছে সাম্প্রতিক নীতিপত্রগুলোতেও।
সরকার–উপদেষ্টা পর্যায়ের আলোচনায় কারখানায় মাত্র ২০ জন শ্রমিকের আবেদনে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের প্রস্তাব এসেছে—যা বর্তমান আইনে মোট শ্রমিকের ২০% সম্মতির বিধান থেকে বড় পরিবর্তন। উদ্যোক্তা–সংগঠনগুলো বলছে, বড় কারখানায় ‘২০ জনের একাধিক রেজিস্ট্রেশন’ হলে অতি–খণ্ডিত ইউনিয়ন তৈরি হয়ে শিল্প–সম্পর্ক অস্থিতিশীল হতে পারে; তারা ‘কারখানাপ্রতি সর্বোচ্চ ইউনিয়ন সংখ্যা’–জাতীয় সুরক্ষা–ক্লজ চেয়েছেন। শ্রম–অধিকার–পালন, ইইউ–মার্কেট অ্যাক্সেস, আইএলও পর্যবেক্ষণ ইত্যাদির মাঝে ব্যালান্সড রিফর্ম–এর তাগিদই মূল কথা।
বিনিয়োগ–সিগন্যাল: নির্বাচন নিয়ে নীতিগত অনিশ্চয়তা কেটে না গেলে FDI ও দেশি CAPEX স্থগিতের ঝুঁকি।
এলডিসি ট্রানজিশন: ২০২৬ সময়সূচি ক্যালেন্ডারে থাকলেও স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি ও মার্কেট–অ্যাক্সেস–সুরক্ষা দ্রুত চূড়ান্ত করা দরকার।
শ্রম–আইন: ‘২০ জনে ইউনিয়ন’ প্রস্তাবের শিল্প–ইমপ্যাক্ট নিয়ে ব্যবসায়ী–পক্ষ উদ্বেগ জানিয়েছে; আইএলও–কমিটমেন্ট বজায় রেখে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পিস–সুরক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ চাওয়া।
১) ট্রানজিশন–কূটনীতি: ইইউ–GSP+ যোগ্যতা পূরণে শ্রম–অধিকার–এনফোর্সমেন্ট ও পরিবেশ–স্ট্যান্ডার্ডে টাইম–বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যান; সমান্তরালে FTA/মিনি–ডিল–এর রোডম্যাপ।
২) শ্রম–আইন ব্যালান্সিং: ‘২০ জনে ইউনিয়ন’–প্রস্তাবে ফ্যাক্টরি–সাইজ–সেন্সিটিভ থ্রেশহোল্ড, কারখানাপ্রতি ইউনিয়ন–ক্যাপ, এবং বাধ্যতামূলক সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম বিবেচনা—আইএলও মান ধরে রেখে শিল্প–শৃঙ্খলা নিশ্চিত।
৩) রপ্তানি–প্রতিযোগিতা: অবকাঠামো–জট, দক্ষতা–উন্নয়ন, কাস্টমস–রিফর্ম, এবং ট্যারিফ–রি–গ্র্যাডেশন—এই চার স্তম্ভে ১২–১৮ মাসের ‘ফাস্ট–ট্র্যাক’ প্যাকেজ।
bdnews24.com (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫): “Top business leaders meet Fakhrul, share ‘concerns’—LDC graduation and labour law reforms were key.”
UN LDC Portal: “Bangladesh is scheduled to graduate on 24 November 2026.
The Business Standard (৩০ আগস্ট ২০২৫): “Allowing trade union registration with 20 workers may trigger industrial instability—BEA.”
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |