| বঙ্গাব্দ

এলডিপি মহাসচিব: জামায়াত শান্তি-শৃঙ্খলার বিরোধী, আসন্ন নির্বাচনে পিআর দাবি বিভ্রান্তিকর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-09-2025 ইং
  • 3982102 বার পঠিত
এলডিপি মহাসচিব: জামায়াত শান্তি-শৃঙ্খলার বিরোধী, আসন্ন নির্বাচনে পিআর দাবি বিভ্রান্তিকর
ছবির ক্যাপশন: এলডিপি মহাসচিব

জামায়াত সবসময় দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার বিরোধী: এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) মহাসচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান করে আসছে। ভারত বিভক্তির সময় পাকিস্তান সৃষ্টির বিরোধিতা করেছিল জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মওদুদী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গোলাম আযমসহ জামায়াত নেতারা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন। আজও তারা পিআর পদ্ধতির অযৌক্তিক দাবি তুলে আসন্ন নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।

সম্মেলনে বক্তৃতা

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) বিকালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নূরীতলা শাহী ঈদগাহ জামে মসজিদ মাঠে এলডিপি’র ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রেদোয়ান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “জামায়াত কখনো এদেশের মঙ্গল চায়নি। স্বাধীনতা সংগ্রামে তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হয়ে অস্ত্র হাতে মুক্তিকামী মানুষদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আজ তারা পিআর পদ্ধতির নামে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার কিংবা নির্বাচনী সংস্কারের বৈঠকে কখনো পিআর পদ্ধতির দাবি আসেনি। এখন জামায়াত আন্দোলনে নেমেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সমমনা দলগুলোও পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে। বাংলাদেশে জনগণ কোনোভাবেই এই প্রথা মেনে নেবে না।”

শেখ হাসিনা ও ভারতের সমালোচনা

ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতের মদদে এদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। গত দেড় দশকে ভোটারবিহীন যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার পেছনে ভারতের নীরব সমর্থন ছিল। স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারত বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়ালেও আজ তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে। আমরা বন্ধুত্ব চাই, তবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিয়ে নয়।”

অন্যান্য বক্তাদের বক্তব্য

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা এলডিপি সভাপতি একেএম সামছুল হক মাস্টার, কেন্দ্রীয় এলডিপি উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু তাহের ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ চেয়ারম্যান।

সভায় বক্তৃতা করেন চান্দিনা পৌর এলডিপি সভাপতি অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন ভুইয়া, সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ, মাইজখার ইউনিয়ন সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া, উপজেলা গণতান্ত্রিক যুবদল সভাপতি প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বাবর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সাক্কু প্রমুখ।

সম্মেলনে কেরণখাল ইউনিয়ন এলডিপি’র সভাপতি হিসেবে আব্দুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ডা. ফারদিন ফারুককে ঘোষণা করা হয়। একইসাথে ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। পরে ইউনিয়ন কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৭১–২০২৫)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামী বরাবরই বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছে।

  • ১৯৭১: স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াত নেতারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান করে, রাজাকার ও আল-বদর বাহিনী গঠন করে।

  • ১৯৭৫–৯০: সামরিক শাসনামলে জামায়াত আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়।

  • ১৯৯১: বহুদলীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব পায়।

  • ২০০১: বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শরিক দল হিসেবে ক্ষমতায় আসে।

  • ২০১৩: যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় ঘোষণার পর জামায়াতের সহিংস আন্দোলন দেশজুড়ে আলোচিত হয়।

  • ২০২৪–২০২৫: নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াত “প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) পদ্ধতি” দাবি করে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল করার প্রয়াস হিসেবে সমালোচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ও শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াতের দাবি ও অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


বিশ্লেষণ

এলডিপি মহাসচিবের বক্তব্য শুধু একটি দলের সমালোচনা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসের প্রতিফলন।

  • একদিকে জামায়াতের ঐতিহাসিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

  • অন্যদিকে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও দ্বিমত দেখা দিয়েছে—স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদান থাকলেও বর্তমান সময়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পিআর পদ্ধতির দাবি বাস্তবায়ন হলে ছোট দলগুলো সুবিধা পেতে পারে, তবে বড় দলগুলো (আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এলডিপি) এটির বিরোধী।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা নির্ভর করছে আসন্ন নির্বাচনের উপর। গণতান্ত্রিক ধারার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বচ্ছ নির্বাচন ও রাজনৈতিক ঐক্য অপরিহার্য।


সূত্র

  1. Human Rights Watch – After the Monsoon Revolution: Bangladesh 2024–25

  2. Freedom House – Bangladesh Country Report 2025

  3. বাংলাদেশ প্রতিদিন, যুগান্তর, আল জাজিরা ও বিবিসি অনলাইন আর্কাইভ

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency