প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, দেশে আবারও নব্য ফ্যাসিবাদী আচরণের চেষ্টা চলছে। তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লিতে বৃষ্টি পড়লে এ দেশে ছাতা ধরা হয়”—অর্থাৎ বিদেশি শক্তির প্রেসক্রিপশনে দেশ চালানোর অপচেষ্টা শুরু হয়েছে। তবে দেশের মানুষ এসব ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধোলাইখাল ট্রাকস্ট্যান্ডে ঢাকা-৬ আসনে (সূত্রাপুর-গেন্ডারিয়া-কোতোয়ালি আংশিক) আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে যারা ক্ষমতায় ছিলেন তারা দেশকে বারবার দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন করেছে, গুম-খুনের রাজ্যে পরিণত করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তবে অতিষ্ঠ জনগণ শেষ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।
তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা যেন আর কখনো খুনি-চাঁদাবাজদের সহযোগী না হই। ৫ আগস্টের পর যে রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। দেশের মানুষ এখন ইসলামের সৌন্দর্যে আস্থা রাখতে চায়। তাই ইসলাম, দেশ ও মানবতার পক্ষে ইসলামী শক্তির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।”
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সূত্রাপুর থানা সভাপতি মো. মানোয়ার খান। তিনি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীককে বিজয়ী করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন—
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ,
যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ ইমতিয়াজ আলম,
সহকারী মহাসচিব প্রকৌশলী কেএম আতিকুর রহমান,
কেএম শরীয়াতুল্লাহ,
ডা. মুহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় পীর সাহেব চরমোনাই আনুষ্ঠানিকভাবে মানোয়ার খানকে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দলগুলোর উত্থান-অবতরণ নতুন নয়।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: জাতীয়তাবাদের ভিত্তি তৈরি হলেও তখন থেকেই ধর্মভিত্তিক রাজনীতি অস্তিত্ব ধরে রাখে।
১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের পর: সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে পরবর্তী সরকারগুলোর পরিবর্তনের কারণে ইসলামভিত্তিক দলগুলো ফের সক্রিয় হয়।
১৯৮০-এর দশক: সামরিক শাসনের সময় ইসলামপন্থী সংগঠনগুলো রাজনৈতিক পরিসরে শক্তি অর্জন করে।
১৯৯০ গণআন্দোলন: বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর ইসলামী দলগুলো সাংসদীয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করে।
২০১৩ শাপলা চত্বর আন্দোলন: ইসলামপন্থী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক দাবি জাতীয় আলোচনায় তীব্রভাবে উঠে আসে।
২০২৪ জুলাই আন্দোলন: গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার পালাবদলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে মাঠে সক্রিয় হয়।
২০২৫: রাজনৈতিক পরিবর্তনের এ বছর ইসলামী দলগুলো নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে জনগণের সামনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে।
চরমোনাই পীরের বক্তব্যে তিনটি মূল দিক স্পষ্ট—
বিদেশি প্রভাববিরোধী অবস্থান: তিনি ভারতের প্রতি নির্ভরশীলতা ও আন্তর্জাতিক চাপকে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
অতীতের দুর্নীতির সমালোচনা: স্বাধীনতার পর থেকে ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতা তুলে ধরে ইসলামী শক্তির বিকল্প ভূমিকা জোরদার করেছেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপট: শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর নতুন রাজনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে—এই মুহূর্তকে ইসলামী শক্তি কাজে লাগাতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাঠপর্যায়ে জনগণের সহমর্মিতা আদায় করতে চাইছে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আস্থা ও দুর্নীতি-বিরোধী ইমেজ সামনে রেখে। তবে বাস্তব রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় দলগুলোর আধিপত্য ভাঙা তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ।
যুগান্তর ও বাংলাদেশ প্রতিদিন – ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সম্পর্কিত প্রতিবেদন (২০২৫)।
Wikipedia – Timeline of Bangladeshi Politics (1950–2025)।
Asia Society – Political Turmoil in Bangladesh: Hasina’s Fall and Rise of Interim Government (2024)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |