সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় সাবেক কুড়িগ্রাম ডিসি সুলতানা পারভীনের জামিন শুনানি হাইকোর্টে
বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সাংবাদিক নির্যাতন মামলায় সাবেক কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমনের দ্বৈত বেঞ্চ আদেশ দেন।
জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফয়জুল্লাহ ফয়েজ ও ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি।
২০২০ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় হানা দেয় জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযোগ ওঠে, প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং বন্দুকযুদ্ধ দেখিয়ে হত্যার হুমকি দেয়া হয়।
পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ’ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। ওই ঘটনায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন ছাড়াও আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
আরিফুল ইসলাম পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে মামলাটি চলমান।
গত ২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ মোসাম্মৎ ইসমত আরা মামলায় সুলতানা পারভীনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন এবং মঙ্গলবার শুনানিতে হাজির হন।
বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। ১৯৮০-এর দশক থেকে সাংবাদিকরা প্রায়ই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েছেন। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ছিল নজিরবিহীন।
এই মামলাটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মানবাধিকার সংগঠন ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে—
সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনের নামে সাংবাদিককে নির্যাতন গুরুতর অপরাধ।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান আইনসঙ্গত কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও হাইকোর্ট বেঞ্চ কার্যবিবরণী।
সাংবাদিক নির্যাতন মামলার প্রাথমিক এজাহার (কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত)।
বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন ও সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিবাদ বিবৃতি।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |