প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
জুলাই অভ্যুত্থানের কয়েক মাস পেরোতেই সাবেক ছাত্রলীগ ও পরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ ফজলুর রহমানকে ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রথমদিকে তিনি অভ্যুত্থান নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিলেও পরবর্তীতে উল্টে বলেন—এটি ছিল “কালো শক্তি” তথা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠিত ঘটনা এবং সামনের সারিতে থাকা নেতারা ছিলেন কেবল “পোস্টার”।
এই পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—তিনি কেন এমন বিভ্রান্তিকর মন্তব্যে গেলেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন—ফজলুর রহমান আওয়ামী লীগ থেকেই উঠে আসা এক “প্রোডাক্ট”।
এক সময় শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগে রাখতে চেয়েছিলেন।
কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পদ না পেয়ে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং শেষ পর্যন্ত বিএনপিতে যোগ দেন।
এক টকশোতে ফজলুর রহমান নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হতে চেয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা দেশের বাইরে, আর আওয়ামী লীগ গভীর সংকটে। সামনে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দলটির জন্য “মরার বাঁচার লড়াই”।
নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে আওয়ামী লীগের অবস্থা জাতীয় পার্টির চেয়েও শোচনীয় হবে বলে দলীয় কৌশলবিদরা মনে করছেন।
এ অবস্থায় শেখ হাসিনা হয়তো ফজলুর রহমানকে “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ”-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।
কারণ:
বিএনপির প্রাক্তন উপদেষ্টা থাকায় তাঁকে অভ্যুত্থানবিরোধী বা সরাসরি আওয়ামী লীগপন্থী বলা কঠিন।
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হলে তিনি সহজেই যুক্তি দাঁড় করাতে পারবেন—“আমাকে দলই বহিষ্কার করেছে।”
এতে তাঁর আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ দুর্বল হয়ে যাবে।
তবে ফজলুর রহমানকে নেতৃত্বে আনার ব্যাপারে বিরোধিতাও কম হবে না।
বিশেষ করে এনসিপির তরুণ নেতারা তাঁর নেতৃত্ব মেনে নেবেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
আবার আওয়ামী লীগের পুরনো কর্মীরাও তাঁকে সহজে গ্রহণ নাও করতে পারেন।
ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক “পাগলামি” বলে যেটি ধরা হচ্ছে—আসলে তা হতে পারে একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল।
পরিকল্পিতভাবেই তিনি বিএনপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছেন।
এতে দল তাঁকে বহিষ্কার করলে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে দাঁড়াবেন।
সেই পথেই হয়তো আওয়ামী লীগ তাঁকে সামনে রেখে নির্বাচনমুখী কার্যক্রম চালাবে।
রাজনীতির মাঠে এটি কার্যকর হবে কিনা এখনই বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত—আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের বাইরে রাখা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আর সেই জায়গাতেই ফজলুর রহমানকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টকশো (ফজলুর রহমানের সাক্ষাৎকার)
জুলাই অভ্যুত্থান–সংক্রান্ত বিশ্লেষণ, জাতীয় দৈনিক
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |