২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামিদের খালাস বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি চলছে
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামির খালাস বাতিল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের দায়ের করা আপিলের শুনানি চলছে।
২০ আগস্ট, বুধবার সকাল
প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হয়। এদিন ছিল আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টে দেওয়া খালাসের রায় বাতিল চেয়ে তাদের বক্তব্য শেষ করে।
হাইকোর্টের রায়
গত ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান (বর্তমানে আপিল বিভাগের বিচারপতি) ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের দ্বৈত বেঞ্চ তারেক রহমান ও লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজনকে খালাস দেন। পরে ১৯ ডিসেম্বর রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল অনুমতির আবেদন করে। গত ১৩ মার্চ চেম্বার জজ আদালত থেকে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠানো হয়।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। প্রাণে রক্ষা পান তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, তবে নিহত হন দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
ঘটনার পর হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া অভিযোগপত্রে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্রে আরও ৩০ জনকে যুক্ত করে আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২।
২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ে—
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত: লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ একাধিক ব্যক্তি।
যাবজ্জীবন: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ আরও অনেকে।
কারাদণ্ড: সাবেক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রাক্তন সদস্যরা।
মোট ৫২ আসামির মধ্যে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জন।
বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার পর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় এবং আসামিরাও আপিল করেন। গত বছরের ৩১ অক্টোবর আপিল শুনানি শুরু হয়। ১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রায় ঘোষণা হয়, যেখানে কয়েকজন খালাস পান। সেই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ এখন আপিল বিভাগে শুনানি চালাচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই হামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলমান। আসামিপক্ষ খালাসের পক্ষে যুক্তি দিলেও রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এটি ছিল সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। আপিল বিভাগের রায় রাজনৈতিক ও আইনগত উভয় দিক থেকে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগ
হাইকোর্ট রায়ের নথি
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালত রিপোর্টিং সেল
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |