| বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-08-2025 ইং
  • 4345426 বার পঠিত
চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: চট্টগ্রামে এনসিপি নেতা

চট্টগ্রামে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগে তোলপাড়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১১ আগস্ট ২০২৫, চট্টগ্রাম
উৎস: যুগান্তর ও অনলাইন তথ্যসমূহ

ঘটনাপ্রবাহ

চট্টগ্রাম মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, বন্দরকেন্দ্রিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমাতে এই চাঁদা দাবি করা হয়।

ভিডিওটি প্রথমে রোববার সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব রাহাদুল ইসলামের আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়। তিনি পোস্টে লেখেন, “সাইফপাওয়ার টেকবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন—এটি ছাত্র ও জনতার সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা।”

ভিডিওর বিবরণ

দেড় মিনিটের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, আফতাব হোসেন রিফাত নামে একজন মেসেঞ্জারে নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলছেন। দৃশ্যটি আরেকটি ফোনে রেকর্ড করা হয়। কথোপকথনে আফতাব জানাচ্ছেন যে তিনি ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন, আর নিজাম বলেন, “আরও ৫ লাখ টাকা নিতে পারো কিনা দেখো প্রেসার দিয়ে, নিতে পারলে রোহান-মীরদের কিছু দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা হবে।”

জানা গেছে, মীর ও রোহান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, আর আফতাব হোসেন ওই আন্দোলনের চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সমন্বয়ক।

অভিযুক্তের ব্যাখ্যা

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজাম উদ্দিন দাবি করেন, “এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ৩০ মে রাতে এক ছোট ভাই রিফাত ফোন করলে আমি দুষ্টুমি করে অনেক কথা বলেছি। ভিডিওটি জোরপূর্বক ধারণ করে আমার বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হয়েছে। আমি কোনো টাকা চাইনি। প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করুক।”

অতীতের অভিযোগ

নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। গত ৫ জুলাই এক নারী অভিযোগ করেন, দুই কোটি টাকা না পেয়ে তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। ওই অভিযোগের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম শাখার সদস্যসচিব পদ থেকে তাকে সাময়িকভাবে সরানো হয়েছিল, পরে আবার সেই পদে ফেরানো হয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্র ও সামাজিক আন্দোলনের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ।

  • ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান: ছাত্র আন্দোলন ছিল শাসন পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি।

  • ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন: রাজপথে ছাত্র-জনতার ঐক্য স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটায়।

  • ২০১৮ ও ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন: কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রমাণ করেছে, যুবসমাজ আজও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বড় শক্তি।

কিন্তু এসব আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে চাঁদাবাজি, দমন-পীড়ন বা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। ২০২৫ সালের এই ঘটনা সেই দীর্ঘ বিতর্কিত ধারার সাম্প্রতিক প্রতিফলন।

বিশ্লেষণ

এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং আন্দোলনভিত্তিক রাজনীতিতে আর্থিক স্বার্থের হস্তক্ষেপের বড় উদাহরণ। একদিকে আন্দোলনের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়, অন্যদিকে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সুনামও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের অভিযোগের সঠিক ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে ভবিষ্যতে আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।


সূত্র

  1. যুগান্তর প্রতিবেদন, ১১ আগস্ট ২০২৫।

  2. ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ছাত্র আন্দোলন ও দুর্নীতির অভিযোগ, ১৯৫০–২০২৫।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency