| বঙ্গাব্দ

দুদকের মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহ কারাগারে

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-08-2025 ইং
  • 3468502 বার পঠিত
দুদকের মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহ কারাগারে
ছবির ক্যাপশন: সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহ কারাগারে

দুদকের মামলায় সাবেক উপাচার্য কলিমউল্লাহ কারাগারে: স্বাধীনতা–উত্তর দুর্নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংকট

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর, আদালতপাড়া প্রতিনিধি ও আর্কাইভ তথ্য

আদালতের রায় ও কারাগারে প্রেরণ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন এ আদেশ দেন। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আদালতের হাজতখানা থেকে তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত চত্বরে শেষ মুহূর্তের দৃশ্য

প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকে কলিমউল্লাহ তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ভ্যানে ওঠার পর স্বজনরা হাতঘড়ি খুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন।
এরপর তিনি লোহার ফাঁক দিয়ে হাতঘড়ি, কলম এবং সোনার আংটি স্বজনদের হাতে তুলে দেন। এই মুহূর্তগুলোতে তাকে স্পষ্টত বিমর্ষ দেখা যায়।

মামলার পটভূমি

দুদকের মামলায় অভিযোগ রয়েছে, উপাচার্য থাকাকালে কলিমউল্লাহ অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২২ সালে তদন্ত করে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পায়। সেই প্রেক্ষিতে দুদক মামলা করে।

স্বাধীনতা–উত্তর প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দুর্নীতি

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দুর্নীতির ইতিহাস নতুন নয়।

  • ১৯৭৩–৭৫: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের পরেও শিক্ষক নিয়োগ ও অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

  • ১৯৮০–৯০ দশক: স্বৈরশাসনের সময় ক্যাম্পাস রাজনীতি ও প্রশাসনিক নিয়োগে দলীয় প্রভাব প্রবল হয়।

  • ২০০০-এর দশক: একাধিক উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের মামলা হয়।

  • ২০১৮: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিয়ে শিক্ষক–শিক্ষার্থী আন্দোলন হয়।

  • ২০২২–২৩: ইউজিসির রিপোর্টে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক অনিয়ম উঠে আসে।

রাজনৈতিক টাইমলাইন (১৯৫০–২০২৫) ও প্রশাসনিক দুর্নীতি

  • ১৯৫০: পূর্ব পাকিস্তান যুগে বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন, কিন্তু আর্থিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ।

  • ১৯৭১: স্বাধীনতার পর শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু।

  • ১৯৭৫: রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষাপ্রশাসন সংস্কারের উদ্যোগ স্থবির।

  • ১৯৯০: গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসন প্রশ্নে বিতর্ক।

  • ২০০৭–০৮: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একাধিক উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা।

  • ২০১০–২০২০: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক নিয়োগ, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ বৃদ্ধি।

  • ২০২২–২০২৫: ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন চালুর পরও অনিয়ম অব্যাহত; একাধিক উপাচার্য দুদকের মামলায় অভিযুক্ত।

বিশ্লেষণ

অধ্যাপক কলিমউল্লাহর ঘটনা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের দীর্ঘস্থায়ী একটি সমস্যার প্রতিফলন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে দলীয় প্রভাব, আর্থিক অনিয়ম এবং জবাবদিহিতার অভাব—এই তিনটি কারণ বারবার একই ধরনের কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়েছে। দুদকের কার্যক্রম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা তৎপর হলেও রাজনৈতিক চাপ ও বিচার বিলম্ব প্রক্রিয়া সংস্কারকে কঠিন করে তুলেছে।


সূত্র

  1. যুগান্তর (প্রকাশিত প্রতিবেদন)

  2. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (২০২২ সালের তদন্ত প্রতিবেদন)

  3. দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা রেকর্ড (২০২৩)

  4. আর্কাইভ: বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা ইতিহাস (১৯৫০–২০২৫

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency