প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশকাল: ৫ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন ডেস্ক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের। আজ সেই ঐতিহাসিক ঘটনার এক বছর। আর এই দিনটিকেই চিহ্নিত করা হলো নতুন রাষ্ট্রচিন্তার ‘ঘোষণাপত্র’ হিসেবে।
আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি, পাশাপাশি অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় “জুলাই ঘোষণাপত্র”। এটি পাঠ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ঘোষণাপত্র পাঠ অনুষ্ঠানে ইউনূসের সঙ্গে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঞ্চে উঠে তারা করমর্দনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যুগল উপস্থিতি ১৯৯০-এর ‘জাতীয় ঐক্য'র ছায়া বহন করে—যেখানে সব গণতান্ত্রিক দল একত্র হয়েছিল স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। আজ আবার সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি।
ঘোষণাপত্রে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে:
✅ জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা
✅ নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বচ্ছ পুনর্গঠন
✅ রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বমুক্ত পুলিশ বাহিনী গঠন
✅ গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা
✅ স্বৈরাচারী অপরাধীদের বিচার ও সম্পদ পুনরুদ্ধার
✅ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মানবাধিকার রক্ষা
ড. ইউনূস ঘোষণাপত্র পাঠে বলেন—
“স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও যদি মানুষ নিরাপদ না থাকে, মতপ্রকাশ করতে ভয় পায়—তবে সে রাষ্ট্র গঠন আবার শুরু করতে হয়। আজ আমরা সেই সূচনা করছি।”
ঠিক এক বছর আগে এই দিনে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে উত্তাল ছাত্র-জনতা ঢাকাজুড়ে সরকারের পতনের দাবিতে রাস্তায় নামে। সহিংস দমননীতির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে তৈরি হয় গণবিক্ষোভের ঢেউ। সেই দিন সন্ধ্যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন, ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে গোপনে ভারতে আশ্রয় নেন—এমনটাই দাবি গণমাধ্যম ও অন্তর্বর্তী সরকারের।
তাঁর এই পালিয়ে যাওয়ার পর ৮ আগস্ট গঠিত হয় আন্তর্বর্তী সরকার, যা পরিচালিত হচ্ছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে।
এর আগে ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়েছিল রাজনৈতিক সঙ্কটকালে। তবে সেবার জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছিল না। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান ছিল জনগণের রক্তদানে নির্মিত, যেখানে শহীদ হয়েছেন ৪০০-এর বেশি মানুষ।
এই সরকার তাই “জনতার অন্তর্বর্তী সরকার” নামেই পরিচিত।
১৯৫২: ভাষার জন্য শহীদ সালাম-রফিক-জব্বারদের আত্মদান
১৯৭১: স্বাধীনতার জন্য রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ
১৯৯০: স্বৈরাচার পতনের ছাত্র গণআন্দোলন
২০২৪: গণ-অভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন
৫ আগস্ট সেই ধারাবাহিকতার আধুনিক প্রতীক—রক্ত, প্রতিরোধ ও পুনর্গঠনের।
যদিও ড. ইউনূস দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত, তবে রাজনীতিতে তার প্রবেশ অনেকের কাছেই নতুন। তার নেতৃত্ব নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন—তিনি কি সত্যিই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন, নাকি আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থনে বসানো হয়েছে?
এমন প্রশ্ন থাকলেও, আজকের ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—এই সরকার আপাতত ‘জাতীয় ঐক্য’র প্রতিনিধি হিসেবেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
আজকের “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান একটি সাংবিধানিক ভিত্তি পেল। যেখানে রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে একটি নতুন রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা।
ড. ইউনূস বলেন শেষ বক্তব্যে—
“আমরা যেন শহীদদের রক্তকে অসম্মান না করি। এ রাষ্ট্র হবে জনগণের—ক্ষমতা থাকবে তাদের হাতে, আর নেতৃত্ব আসবে নৈতিকতা থেকে।”
‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ সরাসরি সম্প্রচার – বিটিভি ও ইউটিউব লাইভ, ৫ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় ঐক্য মঞ্চ ও অন্তর্বর্তী সরকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি – ৫ আগস্ট ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানের রূপরেখা – বাংলাদেশ গবেষণা কেন্দ্র, ২০২৫
২০০৭ সালের অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিহাস – ড. আকরাম হোসেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ
যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, বিবিসি বাংলা আর্কাইভ – আগস্ট ২০২৪
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |