| বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য: ইউনূস

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5430769 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তিতে ঐতিহাসিক সাফল্য: ইউনূস
ছবির ক্যাপশন: ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশ: কূটনৈতিক জয়ে আত্মবিশ্বাসী অন্তর্বর্তী সরকার

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর, যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড ডিপার্টমেন্ট, বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ট্রেড পলিসি রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় সাফল্য

আজ শুক্রবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই ঐতিহাসিক শুল্ক চুক্তি বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়।” তিনি বলেন, বাংলাদেশের আলোচক দল যেভাবে ২০ শতাংশ শুল্কে সমঝোতা আনতে সক্ষম হয়েছে, তা কৌশলগত দূরদর্শিতার প্রতিফলন।

শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করেছে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তি বাংলাদেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় বসে বাণিজ্য আলোচনা সম্পন্ন করে।

১৯৫০–২০২৫: শুল্কনীতি ও বাণিজ্য ইতিহাসে প্রথম

  • ১৯৫১-১৯৭১: পাকিস্তান আমলে পূর্ববাংলা বাণিজ্যে কাঠামোগত বৈষম্য ছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি হয়নি।

  • ১৯৭৪: বঙ্গবন্ধুর আমলে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খাদ্য ও শিল্পজাত দ্রব্যে ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

  • ২০০১: ওয়াল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশনের (WTO) আওতায় ডিউটি-ফ্রি মার্কেট অ্যাকসেস নিয়ে আলোচনায় ঢুকে বাংলাদেশ। তবে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পাওয়ায় অনেক সুবিধা পায়।

  • ২০১৩: রানা প্লাজা বিপর্যয়ের পর জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

  • ২০২5: এই নতুন চুক্তি আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়িয়ে দিল, সেইসঙ্গে জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারে পথ উন্মুক্ত করল।

চুক্তির মূল পয়েন্ট

  • শুল্কহার কমিয়ে ২০% – পূর্ববর্তী প্রস্তাবিত ৩৭% থেকে ১৭ পয়েন্ট কম

  • অ-শুল্ক বাধা হ্রাস – নিরাপত্তা ও স্ট্যান্ডার্ড সার্টিফিকেশন নিয়ে সহজীকরণ

  • বাংলাদেশি পণ্যে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি – বিশেষ করে পোশাক, আইটি পণ্য, ও কৃষিজ পণ্যে

  • জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে স্বচ্ছতা রক্ষা – যুক্তরাষ্ট্রের ‘সাপ্লাই চেইন অ্যাক্ট’ এর সঙ্গে ভারসাম্য

কে কী বলছেন?

  • অধ্যাপক ইউনূস: “আমাদের আলোচক দল প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের পেশাদার কূটনীতি এখন পরিণত ও আত্মবিশ্বাসী।”

  • বাণিজ্য সচিব আ.স.ম. মাহবুব: “এই চুক্তি কার্যকর হলে আমাদের রপ্তানি ৩০% বাড়তে পারে আগামী এক বছরে।”

  • ইউএস ট্রেড ডিপার্টমেন্ট: “বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং প্রতিশ্রুতি প্রশংসনীয়। আমরা পারস্পরিক উন্নয়নের সুযোগ দেখছি।”

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

এই বাণিজ্য চুক্তি এমন এক সময় এলো, যখন দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অন্তর্বর্তী সরকার রয়েছে। সরকার পতনের দাবিতে একাধিক রাজনৈতিক দল আন্দোলন করছে, অন্যদিকে আমলাতন্ত্রে চলছে প্রশাসনিক রদবদল ও এনবিআর আন্দোলন।

তারপরও এমন চুক্তি অর্জন করতে পারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।

বিশ্লেষণ: এ বিজয়ের তাৎপর্য কী?

  • এই চুক্তি একদিকে যেমন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইন্ধন জোগাবে, তেমনি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাবে।

  • এটি আন্তর্জাতিক মিত্রদের (বিশেষ করে Quad ও Indo-Pacific কৌশলভুক্ত দেশগুলো) সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করবে।

  • রাজনৈতিকভাবে এটি এমন সময় এলো যখন বহুজন ভেবেছিল আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বীকৃতি দেবে না। এই চুক্তি সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

  • আগামী নির্বাচনের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মরাল বুস্ট’ হতে পারে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

    সূত্র:

    1. যুগান্তর – “চুক্তির প্রতিক্রিয়া: ড. ইউনূস”

    2. US Trade Department Statement – July 2025

    3. WTO Bangladesh Tariff Archive

    4. বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রেস ব্রিফিং – ৩০ জুলাই ২০২৫

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency