| বঙ্গাব্দ

৩০ বছর ধরে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম, বিশ্বে নতুন রেকর্ড

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 5982388 বার পঠিত
৩০ বছর ধরে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম, বিশ্বে নতুন রেকর্ড
ছবির ক্যাপশন: ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম

৩০ বছর ধরে হিমায়িত ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম, যুক্তরাষ্ট্রে সৃষ্টি হলো নতুন বিশ্বরেকর্ড

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ, গার্ডিয়ান

সায়েন্স ফিকশন নয়, বাস্তব!

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও রাজ্যের পিয়ারস দম্পতি যখন তাদের ছেলে থ্যাডিয়াস ড্যানিয়েল পিয়ারস-কে কোলে নেন, তখন হয়তো তারা ভাবতেও পারেননি—এই জন্ম একটি বিশ্ব রেকর্ড গড়ে দেবে

“আমার পরিবার বলছে, এটা যেন সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্প!”
—লিন্ডসে পিয়ারস, মা

কারণ, থ্যাডিয়াস জন্ম নিয়েছে একটি এমন ভ্রূণ থেকে, যা ৩০ বছরের বেশি সময় হিমায়িত অবস্থায় ছিল।

ঘটনা কীভাবে ঘটল?

  • ১৯৯৪ সালে, ৬২ বছর বয়সী লিন্ডা আরচারড ও তার স্বামী আইভিএফের মাধ্যমে চারটি ভ্রূণ তৈরি করেন

  • এর একটি ভ্রূণ থেকে তাদের মেয়ে জন্ম নেয়, যার বয়স এখন ৩০ বছর।

  • বাকি তিনটি ভ্রূণ তাঁরা গবেষণা বা দান করার জন্য রেখে দেন।

পিয়ারস দম্পতি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না। পরে তারা ওই ৩০ বছর পুরোনো ভ্রূণ দত্তক নেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির রিজয়েস ফার্টিলিটি ক্লিনিকে তা স্থানান্তর করেন।

আগের রেকর্ডও ভেঙে গেল

এর আগে:

  • ২০২২ সালে, ১৯৯২ সালে সংরক্ষিত এক যমজ ভ্রূণ থেকে দুই শিশুর জন্ম হয়েছিল।

  • সেটিই ছিল দীর্ঘতম হিমায়িত ভ্রূণ থেকে জন্মের রেকর্ড।

এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে ১৯৯৪ সালের ভ্রূণ থেকে ২০২৫ সালে শিশুর জন্ম ঘটায় ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্থাপন হয়েছে।

বিজ্ঞান কী বলছে?

ভ্রূণ হিমায়িত করে সংরক্ষণের কৌশল ক্রায়োপ্রিজারভেশন (Cryopreservation) নামে পরিচিত।

  • এতে মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ভ্রূণ সংরক্ষণ করা হয়।

  • এই অবস্থায় ডিএনএ ক্ষয় হয় না, তাই ভ্রূণ দীর্ঘদিন জীবিত রাখার সম্ভাবনা থাকে।

  • তবে সাধারণত ৫-১০ বছরের মধ্যেই এই ভ্রূণ ব্যবহার করা হয়।

এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের নতুন প্রশ্নের মুখে ফেলেছে:
এত দীর্ঘ সময় পরও ভ্রূণের কার্যক্ষমতা কীভাবে বজায় থাকে?
দীর্ঘ হিমায়িত থাকার ফলে কি কোনো জেনেটিক রিস্ক তৈরি হয়?


পিয়ারস দম্পতির ভাষ্যে

“আমরা কোনো রেকর্ড গড়তে যাইনি। আমরা কেবল একটি সন্তান চেয়েছিলাম,” বলেন লিন্ডসে।

তাদের মতে, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জীববিজ্ঞানের চেয়েও বড় কিছু—এটা ভালোবাসা, দায়িত্ব ও বিশ্বাস

নৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক

এই ঘটনা ঘিরে কিছু বিতর্কও উঠেছে:

  • দানকৃত ভ্রূণের মালিকানা ও উত্তরাধিকার

  • বহু বছর ধরে হিমায়িত ভ্রূণের ব্যবহারে সন্তানের মানসিক প্রভাব

  • “ভ্রূণ” কি সম্পত্তি, না জীবনের সূচনা?

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা একদিকে যেমন বিজ্ঞান ও চিকিৎসা প্রযুক্তির জয়, অন্যদিকে এক মানবিক সংকল্পের অনন্য উদাহরণ।

সূত্র:

  1. MIT Technology Review – July 2025

  2. The Guardian – IVF History Report

  3. American Society for Reproductive Medicine (ASRM)

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency