প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নির্বাচনী সাজ সাজ রব। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে শেষ মুহূর্তের কৌশল বিনিময়। এই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
বুধবার বিকেলে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের নেতারা পৌঁছালে এক উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, এটি মূলত একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, যেখানে রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বৈঠকে তারেক রহমান জোটের নেতাদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ১২ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা আবদুল করিমসহ জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, একই দিনে তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের নেতাদের সঙ্গেও পৃথকভাবে সাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই বর্তমান প্রেক্ষাপট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এ দেশের রাজনীতির প্রতিটি বাঁক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে আছে ঢাকা।
বিংশ শতাব্দীর শুরু (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে মুসলিম লীগের গঠন এই ভূখণ্ডের রাজনৈতিক স্বতন্ত্র পরিচয়ের বীজ বপন করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা (১৯৫২-১৯৭১): বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ—এ দেশের মানুষ বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তৎকালীন নেতাদের ভাষণ ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগই ছিল স্বাধীনতার মূল ভিত্তি।
চড়াই-উতরাই ও ২০২৪-এর বিপ্লব: স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হোঁচট খেলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সূচনা করে। এই গণঅভ্যুত্থানের ফলে দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশ সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বর্তমান ২০২৬ এর প্রেক্ষিত: ২০২৪ সালের বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল জুড়ে চলেছে ব্যাপক রাষ্ট্র সংস্কার। আর আজ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে। তারেক রহমানের সঙ্গে জোটবদ্ধ দলগুলোর এই নিয়মিত বৈঠক প্রমাণ করে যে, আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে একটি শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য একটি লিটমাস টেস্ট। বিশেষ করে তারেক রহমান নিজে সরাসরি বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবল কুশল বিনিময় নয়, বরং নির্বাচনের মাঠে অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার একটি ইঙ্গিতও বটে। মাওলানা আব্দুল করিমের মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী সেন্টিমেন্টকে একত্রে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির পথে হাঁটছে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো।
সূত্র: ১. বিএনপি মিডিয়া সেল ও বাসস (BSS) নিউজ আপডেট, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬। ২. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও বিবর্তন আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)। ৩. সমসাময়িক সংবাদপত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নির্বাচনী ভাষ্য।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |