ছাত্রনেতাদের ‘চাঁদাবাজি’ নিয়ে বিস্ফোরক রাশেদ খাঁন: বিপ্লব বেহাতের দায় কার?
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | সূত্র: ফেসবুক পোস্ট, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
শনিবার গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পাঁচ নেতা হাতেনাতে ধরা পড়েছেন পুলিশের হাতে। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিস্ময়, তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের ঢেউ।
ঘটনার পরপরই মুখ খুলেছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান,
“জেলা পর্যায়ে ছাত্রপ্রতিনিধিদের দিয়ে সব দপ্তরের তদারকি—এটি উপদেষ্টাদের নির্দেশে বাস্তবায়ন হয়েছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এসব ছাত্রপ্রতিনিধিরা বদলি বাণিজ্য, প্রমোশন ও নিয়োগ নিয়ে ‘প্রতিমন্ত্রীর’ মতো ক্ষমতা ভোগ করছিল।
এমনকি কেউ কেউ “মিনিমাম কোটি টাকার বেশি” কামিয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী—
“এই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার নেপথ্যে রয়েছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদ ও তথাকথিত সুশীল সমাজের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।”
তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন—
“এই ব্যক্তিরাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ নেতৃত্বকে ‘ছাত্রপ্রতিনিধি’ বানিয়ে তদবির ও চাঁদাবাজির কৌশলে ব্যবহার করেছেন।”
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১’র মুক্তিযুদ্ধ কিংবা ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন— সবক্ষেত্রেই তরুণদের ভূমিকা ছিল নেতৃত্বের আসনে। কিন্তু ইতিহাসে প্রথমবার, ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ছাত্র অভ্যুত্থানের পর “ছাত্র নেতৃত্বের বাণিজ্যিকীকরণ” নিয়ে এতটা বিস্ময়কর অভিযোগ সামনে এল।
বিশ্লেষকরা বলছেন,
“তরুণরা ইতিহাসে বারবার রাজপথে প্রগতির বার্তা এনেছে, কিন্তু এবার হয়তো অতিরিক্ত ক্ষমতার প্রলোভনেই পথভ্রষ্ট হয়েছে অনেকে।”
এক সময় এই আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা ফেসবুকে জানান,
“শুরুটা ছিল আদর্শ দিয়ে, কিন্তু শেষটা হল টাকা আর ক্ষমতার লোভে।”
তিনি বলেন, এখন যারা গণমাধ্যমে ‘চাঁদাবাজি’তে ধরা পড়ছে, তারা একসময় আদর্শের প্রতীক ছিল—তাই দুঃখটাই বেশি।
বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে ছাত্র সমন্বয়ক নিয়োগের ফলে তৈরি হয়েছে একটি অদৃশ্য ক্ষমতাকেন্দ্র। যার মাধ্যমে ছাত্রনেতারা জেলাশাসক থেকে শুরু করে সচিবালয় পর্যন্ত নানা কাজে প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে।
এ নিয়ে এক জেলা প্রশাসক রাশেদ খাঁনকে বলেন—
“আমাদের উপরে চাপ এসেছে ছাত্র প্রতিনিধিদের দিয়ে সব কাজ করানোর। অনেকেই এই সুযোগকে অপব্যবহার করেছে।”
পোস্টের শেষদিকে রাশেদ খান আহ্বান জানান—
“এই বিপথগামী নেতৃত্বের দায় যারা তৈরি করেছে, সেই এনজিও ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজকে সামনে এনে আসছে ৮ আগস্ট ‘বিপ্লব বেহাত দিবস’ পালন করা হোক।”
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |