আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এ রূপ নিচ্ছে গুলিস্তানের পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ কার্যালয়
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২৫ জুলাই ২০২৫
গুলিস্তান, ঢাকা:
দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে—তবে এবার রাজনৈতিক কার্যালী নয়, বরং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ব্যানার ঝুলিয়ে। ১০ তলা এই ভবনটির গায়ে এখন দুটি ব্যানার, তাতে লেখা—‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’।
গতকাল বুধবার (২৪ জুলাই) থেকে ভবনটির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়। আজ বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন তলায় জমে থাকা ইটের খোয়া, আবর্জনা ও ময়লা সরানোর কাজ চলছে।
প্রতিদিন ১০-১২ জন ব্যক্তি কাজ করছেন ভবনটিতে। নিচতলার পর এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার ময়লা পরিষ্কার করা হচ্ছে। ভবনের সামনেও কিছু লোককে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়—তারা সাংবাদিকদের জানান, ভবনটি আন্দোলনকর্মী ও শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তাদের দাবি, ভবনটি একসময় সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার কীভাবে হবে তা ছাত্র ও জনতারাই ঠিক করবেন।
জিজ্ঞাসা করা হলে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’-এর সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি ভবনে অবস্থানরত ব্যক্তিরা।
তবে ইঙ্গিত দিয়েছেন—এটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ। তারা বলেন,
“ভবন পরিষ্কার শেষে এটি ছাত্র-জনতার হাতে তুলে দেওয়া হবে। শহীদ পরিবার ও আহতদের অফিস এখানেই হবে।”
এই ভবনটি উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ২০১৮ সালের ২৩ জুন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে নির্মাণে খরচ হয়েছিল ১০ কোটি টাকা।
কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর ভবনটিতে আগুন দেয়া হয়। আগস্টজুড়ে চলে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ।
এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
এই গবেষণা ইনস্টিটিউট আসলে কে পরিচালনা করছে, বা কোন সংস্থা এর পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে কেউ কিছু বলতে চায়নি।
অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা ও প্রতীকী অবস্থান—যেখানে অতীতের রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হচ্ছে।
এই ভবন ছাত্র আন্দোলনের হাতে তুলে দিলে ভবিষ্যতে এটি কীভাবে ব্যবহৃত হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের পূর্বের প্রতীকী স্থাপনাগুলোর পুনরায় রূপান্তর ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিণত হতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |