প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ওয়াশিংটন, জুলাই ২২:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাম্প্রতিক স্বীকারোক্তি—যেখানে তিনি বলেন জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনায় “গুরুতর ক্ষতি” হয়েছে—তার পরপরই ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।
সোমবার রাতে নিজের Truth Social অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
“ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, আমাদের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলেছিলাম এটি অত্যন্ত সফল একটি অভিযান। প্রয়োজনে আমরা আবারও একই কাজ করব।”
সামরিক হুমকির পাশাপাশি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদককে বরখাস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেন,
“সিএনএন দাবি করছে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ধ্বংস হয়নি, অথচ বাস্তবতা ও গোয়েন্দা তথ্য একেবারেই ভিন্ন কথা বলছে।”
তিনি লেখেন,
“ভুয়া খবর ছড়ানোর জন্য সিএনএনের উচিত সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে সঙ্গে সঙ্গে বরখাস্ত করা এবং ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।”
এই হামলার বিষয়ে প্রথমবারের মতো খোলাখুলি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে, কারণ ক্ষতির মাত্রা ছিল ব্যাপক। তবে এটি কোনোভাবেই স্থায়ীভাবে ত্যাগ করা সম্ভব নয়। এটা আমাদের বিজ্ঞানীদের অর্জন, জাতীয় গর্বের প্রতীক।”
তিনি আরও জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সুবিধাগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কিছু কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত রয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও ইরানের স্বীকারোক্তির পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
The Times of Israel জানিয়েছে, এই হামলা ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটন হয়ত কৌশলগতভাবে ইসরায়েলকেও বার্তা দিচ্ছে যে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র একা নয়।
তেহরান সরকার এখনও তাদের অবস্থানে অনড়। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়,
“জাতীয় স্বার্থ ও বিজ্ঞানীদের মর্যাদার প্রশ্নে আমরা পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবো।”
বিশ্বের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিবৃতি ও পাল্টা বিবৃতিগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে—২০২৫ সালে বিশ্বের অন্যতম ভূ-রাজনৈতিক উত্তপ্ত ফ্রন্ট হবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিভুজ।
জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও নিরাপত্তা পরিষদের কুলিসে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের এই "কঠোর অবস্থান" তার রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। যুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে ভোটারদের মনোভাব টানতে এই ধরনের ভাষ্য ও হুমকি তার আগেও দেখা গেছে।
তবে অন্যরা বলছেন, ইরান সত্যিকার অর্থেই পারমাণবিক সক্ষমতায় এগিয়ে গেলে এই হুমকি বাস্তবে রূপ নিতে পারে—যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে টেনে নিয়ে যাবে অস্থিরতায়।
হামলা হয়েছে জুন ২০২৫-এ, যার কথা এখন স্বীকার করলো ইরান।
ট্রাম্প বললেন, "আবার করব"—Truth Social-এ খোলাখুলি হুমকি।
আরাঘচির স্বীকারোক্তি: পারমাণবিক প্রকল্প ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’।
জাতীয় গর্ব হিসেবে কর্মসূচি থেকে পিছু হটবে না ইরান।
CNN কে আক্রমণ: "ভুয়া প্রতিবেদন ছড়াচ্ছে" বলে রিপোর্টারের বরখাস্ত দাবি।
মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ, বিশ্লেষকদের মত—নতুন উত্তপ্ত যুদ্ধ সম্ভাবনা।
Truth Social – Donald Trump Official Account
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |