বিনোদন ও রাজনীতি ডেস্ক |
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিত্ব মনির খান সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক গুঞ্জনের মুখে মুখ খুলেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—“আমি বিএনপির পদ ছেড়েছি, দল ছাড়িনি। যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।”
সম্প্রতি এক গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মনির খান বলেন,
“২০১৮ সালে আমি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি নিই। এই খবর পুরোনো হলেও সম্প্রতি এটিকে বিকৃতভাবে পরিবেশন করে বলা হচ্ছে আমি দল ছেড়ে দিয়েছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আমি বিএনপিতে ছিলাম, আছি। আমার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির কোনো সুযোগ নেই।”
রাজনীতিতে সক্রিয়তা বজায় রাখার পাশাপাশি মনির খান আগামীর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন,
“আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশে আছি। তারা যদি আমাকে নির্বাচনে দেখতে চায়, আর যদি দলও চায়—তাহলে আমি প্রস্তুত।”
এ কথার মাধ্যমে গায়ক ও নেতার দ্বৈত পরিচয়কে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার সংকেত দিলেন এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী।
১৯৯৬ সালে তার প্রথম একক অ্যালবাম “তোমার কোনো দোষ নেই” প্রকাশিত হয়, যা তৎকালীন অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে আলোড়ন তোলে। এরপর থেকে একে একে ৪২টির বেশি একক অ্যালবাম এবং অসংখ্য দ্বৈত ও মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ করেন।
তার গাওয়া জনপ্রিয় সিনেমার গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
প্রেমের তাজমহল
লাল দরিয়া
দুই নয়নের আলো
বাংলাদেশের আধুনিক গানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য।
মনির খান শুধু গায়ক হিসেবেই নয়, রাজনীতিবিদ হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দীর্ঘদিন বিএনপির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় পদ থেকে পদত্যাগ করলেও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
“মনির খানের মতো জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে বড় একটি আবেগ কাজ করতে পারে।”
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে মনির খান বিএনপি ছাড়ার খবর ঘুরে বেড়াতে থাকে।
এই নিয়ে মুখ খুলে তিনি বলেন,
“গুজব রটানো হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। আমি দল ছাড়লে সেটা আমি নিজেই জানাতাম। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুয়া খবর।”
তিনি আরও বলেন,
“রাজনীতিতে স্বচ্ছতা রাখতে চাই, তাই সময়মতো দলের সঙ্গে সমন্বয় করে পদত্যাগ করেছিলাম, কিন্তু আদর্শ ও সম্পর্ক এখনও অটুট।”
মনির খানের ভাষায়,
“আমি নির্বাচন নিয়ে ভাবছি। তবে সেটা দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। মানুষ আমাকে ভালোবাসে, আর আমি তাদের জন্য কিছু করতে চাই। সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
এখন প্রশ্ন হলো, কোন আসন থেকে তিনি নির্বাচন করবেন?
এ বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে গোপালগঞ্জ ও যশোর অঞ্চলে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে।
বাংলাদেশে বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন:
আলমগীর – আওয়ামী লীগের হয়ে সংসদ নির্বাচন করেছেন
আসিফ আকবর – বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক মন্তব্যের জন্য আলোচিত
মাহিয়া মাহি, ববি – রাজনীতিতে নাম লেখানোর কথা বলেছেন বিভিন্ন সময়
এ প্রেক্ষাপটে মনির খানের সরব উপস্থিতি তারকা রাজনীতির পুনরুত্থানের ইঙ্গিত বলে মনে করছেন অনেকেই।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |