| বঙ্গাব্দ

জনতা ব্যাংকের নতুন প্রমোশন নীতিতে তীব্র অসন্তোষ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-07-2025 ইং
  • 4520807 বার পঠিত
জনতা ব্যাংকের নতুন প্রমোশন নীতিতে তীব্র অসন্তোষ
ছবির ক্যাপশন: জনতা ব্যাংকের নতুন প্রমোশন নীতিতে তীব্র অসন্তোষ

 জনতা ব্যাংকের নতুন প্রমোশন নীতিমালায় তীব্র অসন্তোষ

📅 প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের সদ্য অনুমোদিত প্রমোশন নীতিমালাকে কেন্দ্র করে হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন—এই নীতিমালা একতরফা, বৈষম্যমূলক এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের পুনরায় প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা।

মেধা নয়, প্রাধান্য পাচ্ছে জ্যেষ্ঠতা?

নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সিনিয়র অফিসার (নবম গ্রেড) হিসেবে মেধাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। এর পরিবর্তে আগে দশম গ্রেডে নিয়োগ পাওয়া একটি গোষ্ঠীকে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এক কর্মকর্তা জানান—

“একই ব্যাংকে, একই পদে, একই পারফরম্যান্স—তবুও পদোন্নতির দৌড়ে আমরা পিছিয়ে থাকব? এটা কেমন বিচার!”

অস্বাভাবিক মূল্যায়ন পদ্ধতি

নতুন প্রমোশন নীতিতে ‘ম্যানেজারিয়াল দক্ষতা’, ‘দুর্গম এলাকায় কাজের অভিজ্ঞতা’ বাদ দিয়ে শুধু চাকরিতে যোগদানের তারিখ ধরে চাকরির মেয়াদে নম্বর দেওয়া হচ্ছে।
এতে:

  • নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত অনেকেই পিছিয়ে পড়ছেন।

  • ২৫ বছরে সর্বোচ্চ ৭ নম্বর—এভাবে দশম গ্রেডের পুরনো নিয়োগপ্রাপ্তরাই সুবিধা পাচ্ছেন।

  • এতে প্রায় ৩ হাজার সিনিয়র অফিসার বঞ্চিত হতে পারেন।

আবুল বারকাত-যুগের বিতর্কিত নিয়োগের প্রভাব

সূত্র জানায়, নীতিমালাটি প্রণয়ন করা হয়েছে আবুল বারকাতের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সুবিধা দিতে
বিশ্লেষকদের মতে, সেই সময় জনতা ব্যাংকে রাজনৈতিক দখলদারিত্ব, অস্বচ্ছতা ও নিয়োগে অনিয়ম প্রকট আকারে দেখা দেয়।

ব্যাংকের কর্মপ্রেরণা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে শঙ্কা

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন—

  • প্রমোশন নীতিতে এ ধরনের বৈষম্য অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও হতাশা তৈরি করবে।

  • শ্রেণিকৃত ঋণ, মূলধন ঘাটতির পাশাপাশি কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে গেলে ব্যাংকের অগ্রগতি থেমে যেতে পারে

  • ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা ইতিবাচক ফল দিচ্ছিল, যা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

কর্মীদের প্রতিবাদপত্র

২০১৯ সালের পর সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা ব্যাংক চেয়ারম্যান ও এমডির কাছে প্রতিবাদপত্র দিয়েছেন।
তাদের বক্তব্য—

“এই নীতিমালা আমাদের আত্মবিশ্বাস ও কর্মস্পৃহা ধ্বংস করবে। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, কিন্তু ব্যাংকের ভেতরে যেন ফের পুরনো বৈষম্য ফিরে এসেছে।”

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান বলেন—

“এটি একটি প্রাথমিক খসড়া নীতিমালা। আলোচনার মাধ্যমে পরিমার্জন করা হবে।
২০২৫ সালের জাতীয় সমন্বিত নীতিমালা কার্যকর হবে।
আমরা ২০২৪ সালের প্রমোশন প্রক্রিয়ার জন্য এই পদ্ধতি গ্রহণ করেছি।”


নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency