নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ও দুর্নীতি অনুসন্ধান ডেস্ক | ১৩ জুলাই ২০২৫
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের বিতর্কিত আঞ্চলিক পরিচালক সাঈমা ওয়াজেদ পুতুলকে ১১ জুলাই (শুক্রবার) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। ডব্লিউএইচও'র মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস এক অভ্যন্তরীণ ইমেইলে এই সিদ্ধান্ত জানান।
এই সিদ্ধান্ত আসে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুটি মামলা দায়েরের মাত্র চার মাস পর।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, সাঈমা ওয়াজেদ তার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুয়া তথ্য দিয়েছেন, এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) অনারারি পদে কর্মরত ছিলেন বলে দাবি করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাঈমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে:
দণ্ডবিধি ৪৬৮ ধারা: প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি
দণ্ডবিধি ৪৭১ ধারা: জাল দলিল ব্যবহার
দণ্ডবিধি ৪২০ ধারা: প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পত্তি গ্রহণ
দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭, ৫(২) ধারা: ক্ষমতার অপব্যবহার
সাঈমা ওয়াজেদ তার পরিচালিত সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রধান থাকাকালে বিভিন্ন ব্যাংক ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে ২.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেন। দুদকের মতে, এ অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানো ও স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক জানান, সাঈমার অনুপস্থিতিতে সংস্থার সহকারী মহাপরিচালক ড. ক্যাথারিনা বেহম দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ১৫ জুলাই নয়াদিল্লির WHO অফিসে যোগ দেবেন।
সাঈমা ওয়াজেদ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন থেকেই অভিযোগ ওঠে— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তি প্রকাশ করেছিল বলে হেলথ পলিসি ওয়াচ-এর প্রতিবেদন উল্লেখ করে।
মামলার পর থেকে সাঈমা ওয়াজেদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ভ্রমণে বিরত আছেন। বাংলাদেশে প্রবেশ করলে গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় তিনি আপাতত বিদেশেই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো একটি বৈশ্বিক সংস্থায় সুনাম, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে WHO’র আঞ্চলিক নেতৃত্বে নতুন করে নৈতিক জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা প্রশ্নে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি ফেরাতে পারে।
তথ্যসূত্র: হেলথ পলিসি ওয়াচ, দুদক, ডব্লিউএইচও অভ্যন্তরীণ ইমেইল
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রতিদিন | আন্তর্জাতিক ও দুর্নীতি তদন্ত বিভাগ | ১৩ জুলাই ২০২৫
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |