| বঙ্গাব্দ

সুইডেনে অভিবাসীদের মূল্যবোধ যাচাইয়ের উদ্যোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-07-2025 ইং
  • 4515293 বার পঠিত
সুইডেনে অভিবাসীদের মূল্যবোধ যাচাইয়ের উদ্যোগ
ছবির ক্যাপশন: সুইডেন

🇸🇪 সুইডেনে অভিবাসীদের মূল্যবোধ যাচাই: একীভূতকরণে আসছে ‘মূল্য জরিপ’

স্টকহোম | ৭ জুলাই ২০২৫:
সুইডেনের উদার সমাজে বসবাসরত অভিবাসীদের মূলধারার সাথে মানিয়ে নিতে উৎসাহিত করতে এবার সরকারিভাবে তাদের ‘মূল্যবোধ’ যাচাইয়ের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে দেশটি।
এই পদক্ষেপে প্রায় ৩ হাজার অভিবাসী ও স্থানীয় নাগরিককে একটি জরিপের মাধ্যমে প্রশ্ন করা হবে, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে—একীভূতকরণ কোথায় পিছিয়ে আছে, এবং কোথায় সেতুবন্ধন করা জরুরি।

 ‘মানিয়ে নেওয়া কঠিন, কিন্তু প্রয়োজনীয়’—সিমোনা মোহামসন

নতুন নিযুক্ত সমন্বয়মন্ত্রী সিমোনা মোহামসন সুইডেনের প্রভাবশালী দৈনিক Dagens Nyheter-এ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন:

“সুইডেন একটি কট্টর (rigid) দেশ, তবে সেটা ভালো অর্থে। ধর্মনিরপেক্ষতা, লিঙ্গ সমতা ও ব্যক্তি স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধ যারা ঐতিহ্যবাহী সমাজ থেকে আসেন, তাদের কাছে প্রথমে কঠিন মনে হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন,

“এই জরিপের উদ্দেশ্য কাউকে মতাদর্শিকভাবে বদলানো নয় বরং সুইডেনের সামাজিক কাঠামোকে রক্ষা করা এবং সমন্বয় প্রক্রিয়াকে বাস্তবভিত্তিক করা।”

জরিপে কারা থাকছে?

  • ৩০০০ অংশগ্রহণকারী, এর মধ্যে:

    • ১৫০০ স্থানীয় সুইডিশ

    • ১৫০০ অপশ্চিমা অভিবাসী

  • বিষয়বস্তু:

    • গর্ভপাত, সমকামী অধিকার, বিবাহবিচ্ছেদ, প্রি-ম্যারিটাল রিলেশন

    • ধর্মীয় অনুশাসন ও নারী স্বাধীনতা

    • সমাজের সঙ্গে সংযুক্তির অনুভূতি

পূর্ববর্তী গবেষণায় কী পাওয়া গেছে?

World Values Survey-এর পূর্বের এক জরিপে উঠে আসে, অনেক অভিবাসী ব্যক্তি শুরুতে:

  • সমকামীতা, বিবাহবিচ্ছেদ ও নারীর অধিকার নিয়ে দ্বিধান্বিত থাকেন

  • তবে ১০ বছর পর অনেকেই স্থানীয়দের মতো মানসিকতা অর্জন করেন

সিমোনার মতে,

“এই দশ বছর সময়ের মধ্যে অনেক মেয়ের স্বাধীনতা হারিয়ে যায়, আর ছেলেরা তাদের যৌন পরিচয় গোপন করতে বাধ্য হয়। এটা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য কাম্য নয়।”

 পটভূমি: কেন এমন পদক্ষেপ?

সুইডেনে ২০২২ সালে ডানপন্থী ডেমোক্র্যাটিক সমর্থিত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি বাড়ে।
১৯৯০-এর দশক থেকে যে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী আশ্রয় পেয়ে এসেছে—বিশেষতঃ আফগানিস্তান, ইরাক, সোমালিয়া, ইরান, সিরিয়া এবং সাবেক যুগোস্লাভিয়ার মতো দেশ থেকে—তাদের অনেকেই বর্তমানে দ্বিতীয় প্রজন্ম তৈরি করেছে।

২০১৫ সালের শরণার্থী সঙ্কটের পর সুইডেনে অভিবাসন নীতির পুনর্বিন্যাস শুরু হয়।
২০২৪ সালে সুইডেনের জনসংখ্যার ২০% বিদেশে জন্মগ্রহণকারী, যেখানে ২০০০ সালে তা ছিল মাত্র ১১%। (তথ্যসূত্র: Statistics Sweden)

সুরক্ষা নাকি বৈষম্য? বিতর্ক তুঙ্গে

অধিকারকর্মীদের অনেকেই এই ধরনের “মূল্য যাচাই” প্রক্রিয়াকে সাংস্কৃতিক বৈষম্যের সূক্ষ্ম রূপ বলে দাবি করছেন।
তবে সরকার বলছে,

“সুইডেনে বসবাস করা কোনো মানুষের জন্মগত অধিকার নয়, বরং সে সুযোগের সঙ্গে দায়িত্বও বহন করে।”

সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে হলে সকল নাগরিককেই সুইডিশ মান ও মূল্যবোধের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা দেখাতে হবে—এমনটাই স্পষ্ট করছে সরকার।

বাংলাদেশি পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিকতা

বাংলাদেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিবাসী সুইডেনে আছেন—অনেকে শিক্ষাবৃত্তি, কর্মসংস্থান বা শরণার্থী হিসেবে সেখানে যান।
এই নতুন নীতিমালা তাদের জন্য:

একদিকে সুযোগ তৈরি করতে পারে সমাজে দ্রুত একীভূত হবার
অন্যদিকে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে নিজেদের সংস্কৃতি বজায় রাখতে চাওয়ার মাঝে

আপনার কী মতামত?

“আধুনিক সমাজে নিজস্ব সংস্কৃতি বজায় রাখার চেষ্টাকে কি একীভূতকরণের পথে বাধা বলা ঠিক?”
নাকি এই ধরনের জরিপ স্বচ্ছতা ও সামাজিক বোঝাপড়ার নতুন পথ খুলে দেয়?

আপনার মন্তব্য লিখুন নিচে 
আর চাইলে আমরা আপনার মতামত পাঠিয়ে দেবো স্টকহোমের সংশ্লিষ্টদের কাছেও!

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency