| বঙ্গাব্দ

মধ্য ভূমধ্যসাগরে ১১৭ জন অভিবাসী উদ্ধার: ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 04-07-2025 ইং
  • 3635880 বার পঠিত
মধ্য ভূমধ্যসাগরে ১১৭ জন অভিবাসী উদ্ধার: ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
ছবির ক্যাপশন: মধ্য ভূমধ্যসাগরে ১১৭ জন অভিবাসী উদ্ধার

মধ্য ভূমধ্যসাগরে ১১৭ জন অভিবাসী উদ্ধার: আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, উদ্ধার অভিযানে ব্যর্থতা

মধ্য ভূমধ্যসাগরের বুধ ও বৃহস্পতিবার কয়েকটি আলাদা অভিযানে মোট ১১৭ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম দুটি ওশান ভাইকিংগারগানে-৬ জাহাজ পরিচালনা করেছে।

মাল্টায় উদ্ধার অভিযান

মাল্টা উপকূলের এসএআর জোন থেকে ইতালীয় সংস্থা আরচি পরিচালিত গারগানে-৬ পালতোলা নৌকা বৃহস্পতিবার সকালে ৬০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসী এবং ৩ জন সন্তানসম্ভবা নারী রয়েছেন। বেশ কয়েকজন উদ্ধার হওয়া অভিবাসী অসুস্থ ছিলেন, এবং তাদের চিকিৎসার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

এরপর, গারগানে-৬ নৌকা কর্তৃপক্ষ আরও ২০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে, যারা এক সময় ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়ে। তবে, ইতালি ও মাল্টা কর্তৃপক্ষকে এই বিষয় জানানো সত্ত্বেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে আরচি

আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কর্তৃপক্ষের দায়

আরচি একটি বিবৃতিতে জানায়, “এই ঘটনা দুই দেশের জন্য একটি গুরুতর ব্যর্থতা। স্পষ্টত: উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক এসএআর কনভেনশন এবং সোলাস কনভেনশন এর স্পষ্ট লঙ্ঘন।” এসব কনভেনশনের আওতায় রাষ্ট্রগুলোকে অভিবাসীদের উদ্ধার নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হয়েছে, কিন্তু উক্ত দুই দেশের কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব পালন করছে না।

আরচি আরও উল্লেখ করেছে, ২০২৫ সালে এসে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি অগ্রহণযোগ্য, কারণ আন্তর্জাতিক আইনে বিপদগ্রস্তদের উদ্ধার করা বাধ্যতামূলক। তাদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

গারগানে-৬ এবং উদ্ধার জাহাজের সীমাবদ্ধতা

বর্তমানে, গারগানে-৬ একটি ছোট আকারের নৌকা, যা একসঙ্গে অনেক বেশি অভিবাসীকে তদারকি করতে সক্ষম নয়। ইমার্জেন্সি উদ্ধার জাহাজ বর্তমানে গারগানে-৬-এর দিকে রওনা হয়েছে, তবে তাদের কাজের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ওশান ভাইকিংয়ের উদ্ধার অভিযান

আরেকটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে ওশান ভাইকিং জাহাজ, যেটি লিবিয়া উপকূলে ৩৭ জন অভিবাসী উদ্ধার করেছে। এই অভিবাসীরা প্রায় ১২ ঘণ্টা কোনো খাবার ও পানি ছাড়াই সমুদ্রে ভেসে ছিল। তাদের উদ্ধার করতে সিবার্ড নজরদারি বিমান সাহায্য করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্ধার তৎপরতার অভাব

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ভূমধ্যসাগরের অভিবাসন রুট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো যৌথভাবে কোনো কার্যকর উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে না। ফ্রন্টেক্স সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকলেও, তাদের মূল লক্ষ্য অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, যার ফলে ইউরোপীয় উপকূলরক্ষী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সীমিত

ভূমধ্যসাগরে বিপজ্জনক অভিবাসন রুট

ভূমধ্যসাগরের অভিবাসন রুট এখন বিশ্বের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বিপজ্জনক রুট হিসেবে বিবেচিত। এই রুটে, সাধারণত তিউনিশিয়ালিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীরা বিপদে পড়েন। আইওএম এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভূমধ্যসাগরে দুই হাজার ৪৫২ জন অভিবাসী মারা গেছে।

উপসংহার

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসী উদ্ধার অভিযানে ইতালি ও মাল্টা কর্তৃপক্ষের নিস্ক্রিয়তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগের অভাব অভিবাসীদের জন্য বিপদকে আরো বৃদ্ধি করছে। গণহত্যার মতো ঘটনা মোকাবিলা করতে হলে আন্তর্জাতিকভাবে আরো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন, যাতে অভিবাসীরা বিপদে পড়ার আগেই উদ্ধার হতে পারেন।

প্রতিবেদকBDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency