বিশেষ প্রতিবেদন | বাংলাদেশ প্রতিদিন
মাত্র ১২ দিন স্থায়ী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ হঠাৎ করে থেমে গেল এক ঘোষণায়—ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি দিলেন। অথচ যুদ্ধের আগেই তিনি বলেছিলেন, “ইসরায়েল ভালো করছে, তাদের থামানো ঠিক হবে না।” তখনো যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না। প্রশ্ন উঠছে—তিনি কীসের ভিত্তিতে মত পাল্টালেন?
ট্রাম্প প্রশাসনের অতীত কূটনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয়—ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সব সময় ইসরায়েলঘেঁষা।
এর আগে ট্রাম্প:
ইরান চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে আনেন।
ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে ড্রোন হামলায় হত্যা করেন।
ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে আঘাত হানেন।
এবারও দৃশ্যপট আলাদা ছিল না। তবে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে একটি “মধ্যস্থতাকারী মুখোশ” পরে হাজির হলেন ট্রাম্প।
১. জনপ্রিয়তা হারানোর ভয় নেই: ট্রাম্প জানেন, তিনি আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে পারবেন না। তাই ইসরায়েলকে সাহায্য করে তাঁর সমর্থকদের মন জয় করেছেন।
২. মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলা: কাতার ও ইরাকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁকে যুদ্ধ থামাতে হয়েছে।
প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ: ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু অবকাঠামো এবং বিজ্ঞানীদের ওপর সফলভাবে আঘাত হেনেছে। এখন থামাও নিরাপদ।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরে চলমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক সংকটের মাঝে নেতানিয়াহু যুদ্ধকে ব্যবহার করলেন নিজের অবস্থান শক্ত করতে। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে গাজায় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য।
যুদ্ধ দিয়ে তিনি:
দৃষ্টি ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে দিলেন
নিজেকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেন
ট্রাম্পের সহায়তা পেয়ে যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে "উদার" মুখোশও পরালেন
ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষা করেছে।
জাতিসংঘ সনদের ২(৪) ধারা লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল, কিন্তু ইরান সনদের ৫১ ধারার আলোকে পাল্টা জবাব দিয়েছে।
তাদের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালি বন্ধের অনুমোদন দিলেও বাস্তবে তারা সেটি করেনি।
বরং, যুদ্ধবিরতির আগেই মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইঙ্গিত দিয়েছে—“আমরাও পারি, তবে চাই না।”
যুদ্ধবিরতি যতই ট্রাম্পের কৌশল হোক, ইরান এই সংঘাতে জাতীয়তাবাদী ঐক্য গড়ে তুলেছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝেও যুদ্ধ তাদের ভিতরের সংহতি বাড়িয়েছে। সামরিকভাবে না হলেও, নৈতিক অবস্থানে ইরান অনেকটাই এগিয়ে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |