ব্যাংক খাতে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবার সাইপ্রাসে থাকা দোতলা বাড়ি জব্দ এবং ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও জার্সিতে থাকা কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, ইসলামী ব্যাংকের ১০ সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
সাইপ্রাসে এস আলমের দোতলা বাড়ি
ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জে ১৯টি কোম্পানির শেয়ার
যুক্তরাজ্যের জার্সিতে ছয়টি ট্রাস্ট কোম্পানির শেয়ার
এই আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব, দুদকের পৃথক তিনটি আবেদনের শুনানি শেষে।
| তারিখ | আদেশ | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১৭ এপ্রিল ২০২৪ | ১,৩৬০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ | ৳২,৬১৯ কোটি+ |
| ২৩ এপ্রিল | ১৫৯.১৫ একর জমি জব্দ | ৳৪০৭ কোটি |
| ১৭ জুন | ২০০ একর জমি জব্দ | ৳১৮০.৬১ কোটি |
| ৩ ফেব্রুয়ারি | ১৭৫ বিঘা সম্পত্তি জব্দ | ৳৩৬৮.২৫ কোটি |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | ৫,১০৯ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ | ৪৩৭.৮৫ লাখ শেয়ার |
| ২৩ ফেব্রুয়ারি | ৮,১৩৩ কোটি টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ | |
| ১০ মার্চ | ১,০০৬ বিঘা জমি জব্দ | |
| ৯ এপ্রিল | ৯০ বিঘা জমি ও ৩৭৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ | |
| ১৬ জানুয়ারি | শেয়ার অবরুদ্ধ | ৳৩,৫৬৩ কোটি |
এস আলমের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম বহির্ভূত ঋণ প্রদানে সহায়তার অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের ১০ সাবেক কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
মোহাম্মদ মনিরুল মাওলা – সাবেক এমডি
মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ – সাবেক ডিএমডি
মোহাম্মদ ইহসানুল ইসলাম – সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট
মুহাম্মদ কায়সার আলী – সাবেক এএমডি
মুহাম্মদ সিরাজুল কবির – সাবেক শাখা প্রধান
মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ – রংপুর জোন
আহমেদ জুবায়েরুল হক – EVP
এস এম তানভির হাসান – সাবেক কর্মকর্তা
হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল – সাবেক কর্মকর্তা
[১ জনের নাম অনুপলব্ধ, তথ্য অনুসন্ধানে]
“তারা দেশত্যাগ করলে অনুসন্ধান ব্যাহত হতে পারে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।”
এরইমধ্যে মনিরুল মাওলাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই অভিযোগকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বিস্তৃত করপোরেট অনুসন্ধান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দেশি ও বিদেশি সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, শেয়ার ও জমি জব্দ—এই পদক্ষেপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন বার্তা বহন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে,
“দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতে না গিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সক্রিয়তা ব্যাংক খাতকে অনেকটাই শৃঙ্খলায় আনবে।”
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে তদন্ত: বিদেশি সম্পদের ওপর জব্দ আদেশ বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
ব্যাংকিং সংস্কার: নিয়ম বহির্ভূত ঋণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।
পরবর্তী ধাপ: এস আলম ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার চার্জশিট ও বিচার কার্যক্রম।
১. এস আলম গ্রুপের কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে?
➤ অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক জালিয়াতি, অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।
২. কে আদেশ দিয়েছেন বিদেশি সম্পদ জব্দের?
➤ ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব।
৩. ইসলামী ব্যাংকের কোন কর্মকর্তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায়?
➤ সাবেক এমডি থেকে EVP পর্যন্ত ১০ জন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
৪. এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখন কী হবে?
➤ সম্পদের উৎস অনুসন্ধান শেষে চার্জশিট এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৫. এস আলমের এখন পর্যন্ত মোট কত টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ হয়েছে?
➤ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার সম্পদ, শেয়ার ও জমি।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |