তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান সম্প্রতি এক কূটনৈতিক সম্মেলনে বলেন—“মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ইসরায়েল।”
তিনি ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ইরানবিরোধী হামলাকে 'সরাসরি ডাকাতি' আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানান।
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন পরমাণু আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল।
এরদোয়ান দাবি করেন, ১৩ জুনের ইসরায়েলি হামলা ছিল সেই আলোচনাকে বানচাল করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচেষ্টা।
স্থান: ইস্তানবুল, তুরস্ক
আয়োজক: আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্মেলন
উপস্থিত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা
উৎস: বিবিসি বাংলা, ২১ জুন ২০২৫
এরদোয়ানের বক্তব্য:
“ইসরায়েল শুধু একটি রাষ্ট্র নয়—এটি একটি হুমকি, যা এই অঞ্চলের শান্তিকে প্রতিনিয়ত ধ্বংস করছে।”
“নেতানিয়াহু সরকার দেখিয়ে দিচ্ছে, তাদের রাজনৈতিক কৌশলের মধ্যে শান্তির কোনো জায়গা নেই।”
১৩ জুন তারিখে ইসরায়েল ইরানের একাধিক সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ইসফাহান পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র।
এই হামলার পরই:
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানায়
তুরস্ক ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশ ইসরায়েলের একতরফা আগ্রাসনের সমালোচনা করে
এরদোয়ান বলেন:
“এই আক্রমণের উদ্দেশ্য পরমাণু আলোচনাকে ধ্বংস করা, যাতে কোনো সমঝোতা না হয়।”
তুরস্কের বর্তমান সরকার, বিশেষ করে এরদোয়ান, গত এক দশকে:
ফিলিস্তিন ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বারবার “অবৈধ রাষ্ট্রীয় সহিংসতা” অভিযোগ এনেছে
আন্তর্জাতিক ফোরামে ইসলামি বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্য শুধু মধ্যপ্রাচ্যের জিওপলিটিক্স নয়, বরং তুরস্কের আঞ্চলিক নেতৃত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষারও প্রকাশ।
এরদোয়ান চেষ্টা করছেন মুসলিম বিশ্বের কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মুহূর্তে।
তুরস্ক অনেকবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এই বক্তব্যে ইঙ্গিত রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যথাযথ ভূমিকা নিচ্ছে না।
ইরান ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে—ইসরায়েলি হামলার মুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে।
এটি পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করছে।
ইস্তানবুলে অনুষ্ঠিত ওআইসি বৈঠকে ইরান, কাতার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের নেতৃত্বে সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয় ছিল:
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসন
মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার অভাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক জোটের প্রয়োজনীয়তা
Q1: এরদোয়ান কেন ইসরায়েলকে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ বললেন?
A: কারণ তার মতে, ইসরায়েল একতরফা আগ্রাসনের মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করছে।
Q2: ইসরায়েল কাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে?
A: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ও সামরিক কমান্ডারদের।
Q3: তুরস্কের অবস্থান কী?
A: তুরস্ক ফিলিস্তিন ও ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের নীতির তীব্র বিরোধিতা করছে।
Q4: পরমাণু আলোচনার বর্তমান অবস্থা কী?
A: ইরান বলেছে, ইসরায়েল আক্রমণ বন্ধ না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না।
Q5: ওআইসি কী ভূমিকা নিতে পারে?
A: তুরস্কের আহ্বানে মুসলিম দেশগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করতে পারে।
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |