বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক আবদুল হালিম শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন, "বৃহত্তর রংপুরের ৩৩টি আসনে জয়লাভের লক্ষ্যে আমরা নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
এই ঘোষণার পাশাপাশি ৪ জুলাই রংপুরে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় জনসভা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দলটির রাজনৈতিক কর্মকৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
শুক্রবার বিকেলে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির নির্বাচনী প্রস্তুতি ও আসন্ন ৪ জুলাই বিভাগীয় জনসভা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
আবদুল হালিম জানান:
রংপুর অঞ্চলের ৩৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন ও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার রয়েছে
দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে জনসম্পৃক্ততা তৈরির জন্য সকলকে জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে
জনসভায় প্রধান অতিথি থাকবেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান,
প্রধান বক্তা হবেন সদ্য কারামুক্ত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম,
এছাড়া বক্তব্য দেবেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম সহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বিগত দশকগুলোতে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল জামায়াতে ইসলামীর জন্য একটি সক্রিয় রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে জাতীয় সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জামায়াত জয়লাভ করেছিল উত্তরাঞ্চল থেকেই।
তিস্তা ব্যারেজ ও নদী ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি প্রাণের দাবি। বারবার সরকারের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। জামায়াত এখন এই বিষয়টিকে সামনে এনে জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাইছে।
সদ্য কারামুক্ত এই নেতার উপস্থিতি জনসভায় একটি প্রতীকী বার্তা বহন করে — জামায়াত নেতৃত্বের ঐক্য ও দৃঢ়তা।
রাজনৈতিক কৌশল: ৩৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা একটি সুসংগঠিত নির্বাচনী কৌশলকে নির্দেশ করে।
জনসম্পৃক্ত বার্তা: তিস্তা প্রকল্পের মতো স্থানীয় ইস্যুকে সামনে এনে সাধারণ জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।
ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সংবেদনশীলতা: "মানবিক বাংলাদেশ" গড়ার কথা বলে দলটি একটি ইসলামি ও নৈতিক রাজনৈতিক চেতনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছাত্র ও শ্রমিকদের আহ্বান: দলটি তরুণ প্রজন্ম ও শ্রমজীবী মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মাঠের রাজনীতিতে জনশক্তি জোগাতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শহীদুল ইসলাম (কাল্পনিক) বলেন,
“জামায়াত এখন স্থানীয় উন্নয়ন ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে একত্রে মিলিয়ে একটি বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের চেষ্টা করছে।”
উত্তরবঙ্গের ভোটব্যাংকে জামায়াতের পুনঃপ্রবেশ
তিস্তা ইস্যু নিয়ে রাজপথে কার্যকর বার্তা
ছাত্রশিবির ও শ্রমিক সংগঠনের সমন্বিত ভূমিকা
রাজনৈতিক নিষিদ্ধকরণের ঝুঁকি
জাতীয় দলগুলোর সাথে জোট না থাকলে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
জামায়াত বিরোধী সামাজিক প্রতিক্রিয়া
রংপুর অঞ্চলে জামায়াতের ৩৩ আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও ৪ জুলাইয়ের জনসভা শুধু একটি দলীয় আয়োজন নয় — বরং এটি উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উন্নয়ন ইস্যুভিত্তিক রাজনীতির নতুন রূপরেখা।
তিস্তা নদী ও মানবিক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি সামনে এনে জামায়াত এখন স্থানীয় ইস্যু ও ইসলামি মূল্যবোধের সমন্বয়ে জনসম্পৃক্ত রাজনীতির পথে হাঁটছে।
এখন দেখার বিষয় — জনগণের অংশগ্রহণ কতটা কার্যকর হয় এবং ২০২৫-এর নির্বাচনে এই প্রচেষ্টা কতটা বাস্তব প্রতিফলন পায়।
1. জামায়াত ৩৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে কেন?
রংপুর অঞ্চলে জামায়াতের ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে। তাই তারা এই এলাকায় সক্রিয় নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
2. তিস্তা মহাপরিকল্পনা কী?
তিস্তা ব্যারেজ ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় পরিকল্পনা, যা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
3. এটিএম আজহারুল ইসলাম কে?
তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, সদ্য কারামুক্ত হয়েছেন।
4. এই জনসভা কবে ও কোথায় হবে?
৪ জুলাই, রংপুর জিলা স্কুল মাঠে।
5. জামায়াত নির্বাচন করবে কি?
হ্যাঁ, তারা ২০২৫ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থী প্রস্তুত করছে।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |