আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন,
“রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্যা আদতে মনমানসিকতার।” শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন,
“আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করলে জনগণকেই ঠিক করতে হবে কে গ্রহণযোগ্য আর কে নয়। আজ যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করছে, আগামী দিনে তারাই বিএনপিকেও নিষিদ্ধ করতে চাইবে না, এ নিশ্চয়তা কোথায়?”
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন,
“পাকিস্তান সৃষ্টির মূল কারিগর ছিল মুসলিম লীগ। আজ তাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। জাসদ ছিল বড় দল, এখন বিভক্ত। ইউপিপিও আর নেই। যারা জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা এমনিতেই মুছে যায় ইতিহাস থেকে।”
তিনি এই বক্তব্যের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, কোনো দল বা সংগঠন যদি জনগণের স্বার্থে কাজ না করে, তাহলে সেটিকে আইন দিয়ে নিষিদ্ধ না করলেও জনগণই তাদের রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেয়।
গয়েশ্বর বলেন,
“আওয়ামী লীগ যদি গণতন্ত্র ও দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়, তাহলে জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। কিন্তু আজকে যারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চাইছে, তাদের নিজেদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন
“আজ এই অন্তর্বর্তী সরকারের কলকাঠি কারা নাড়ছে? যারা ১/১১-তে জড়িত ছিল, তারাই কি আবার অদৃশ্যভাবে ক্ষমতায় এসেছে?”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আকারে-ইঙ্গিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং এটিকে 'গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার' বলেও আখ্যা দেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“জামায়াত এখনো নিষিদ্ধ দল। কিন্তু সরকার তাদের গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কেন?”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হলে তার পেছনে যথাযথ যুক্তি ও আইনি ভিত্তি থাকা উচিত। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এমন সিদ্ধান্ত দেশে দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেশত্যাগ নিয়েও সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন,“একজন দুইবারের রাষ্ট্রপতি চলে গেলেন, অথচ সরকার জানে না? এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? সরকারের অনুমতি ছাড়া তিনি বিদেশ যেতে পারেন না।”
তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ‘দ্বৈত নীতি ও গোপন চাল’ চালানোর অভিযোগ করেন এবং বলেন,
“আসলে এখন সরকার কয়টা? ইউনূস সরকার? নাকি ছাত্রদের সরকার? বাস্তবে কে চালাচ্ছে দেশ?”
আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও সরকারের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন,
“আজ আরাকান ইস্যুতে জনগণ ফুঁসে উঠেছে, কিন্তু সরকার একবারও বলেনি তারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব আছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্য রাজনৈতিক মঞ্চে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করাই সমাধান নয়—বরং গণতন্ত্রের ভিত্তি রক্ষা করে জনগণের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোই প্রকৃত সমাধান।
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো আগামী দিনে কী ভূমিকা রাখবে, তা দেখার অপেক্ষা।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |