সিলেটে কেএফসিতে ভাঙচুর: ইসরায়েলি কোমল পানীয় বিক্রির প্রতিবাদে বিক্ষোভ
গাজা উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলা এবং ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে সিলেটে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এই বিক্ষোভের মধ্যে সিলেটের মিরবক্সটুলায় অবস্থিত ফাস্ট ফুড চেইন কেএফসিতে ভাঙচুর চালানো হয়, যেখানে কোমল পানীয় কোকাকোলা বিক্রির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ সময় রেস্টুরেন্টের ভেতরে থাকা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কোমল পানীয় নষ্ট করে দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের পটভূমি
আজ সোমবার (৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলার কেএফসি রেস্টুরেন্টে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কেএফসি রেস্টুরেন্টের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। তাঁরা দাবি জানান যে, ফিলিস্তিনিদের গণহত্যাকারী কোনো ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান তাদের দেশে স্থান পাবে না। এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তারা কোকাকোলা ও অন্যান্য ইসরায়েলি পণ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেএফসি কর্তৃপক্ষ হামলার পরপরই রেস্টুরেন্টটি বন্ধ করে দেয়।
হামলা ও ভাঙচুর
বিক্ষোভকারীরা কেএফসির ভেতরে প্রবেশ করে ইসরায়েলি কোমল পানীয়গুলো নষ্ট করেন এবং রেস্টুরেন্টের নানা ধরনের উপকরণ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় অন্যান্য পণ্যও ভাঙচুরের শিকার হয়, এবং বেশ কিছু সময়ের জন্য রেস্টুরেন্টটি বন্ধ রাখা হয়। তাদের অভিযোগ ছিল, কোকাকোলা, যা একটি ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের পণ্য, তা বিক্রি করা হচ্ছে এবং এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর সহায়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনার পর সিলেটের দরগা গেইট এলাকায় বাটার শো-রুমেও হামলা এবং ভাঙচুর চালানো হয়। এই হামলায় শো-রুমের কর্মচারীরা ভয়ে দোকান থেকে বের হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। বিক্ষোভকারীরা সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কেএফসির সামনে জড়ো হন এবং প্রতিবাদ জানান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কাজ করছেন এবং কোনো অরাজকতা তৈরি না হওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন
সিলেটের এই প্রতিবাদী মিছিল এবং বিক্ষোভের মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের একতাবদ্ধ সমর্থন এবং গাজার নিরপরাধ মানুষদের প্রতি ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। গাজার পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইসরায়েলের হামলাকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ
আজকের বিক্ষোভে সিলেটের বিভিন্ন সংগঠন অংশগ্রহণ করেছে, যাদের ব্যানারে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রতিবাদ করা হয়েছে। এসব সংগঠন একযোগে এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন।
শেষকথা
সিলেটের কেএফসিতে ইসরায়েলি কোমল পানীয় বিক্রির প্রতিবাদে বিক্ষোভ এবং ভাঙচুরের ঘটনা একটি বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতার নিন্দা তুলে ধরতে এই ধরনের প্রতিবাদী আন্দোলন আরও জোরালো হতে পারে। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তবুও এই আন্দোলন বিশ্ববাসীকে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও সচেতন করে তুলেছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |