ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা: সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিকাক গ্রেপ্তার
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার গুরুতর অভিযোগে সার্বিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মার্কো ক্রিকাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) দেশটির সরকারি প্রসিকিউটরের কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর।
৪২ বছর বয়সী মার্কো ক্রিকাককে ক্ষমতাচ্যুত ও বিতর্কিত রাজনৈতিক নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভুচিচের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলা দীর্ঘ ছাত্রবিক্ষোভ ও আন্দোলন দমনে পুলিশের কুখ্যাত ও কঠোর ভূমিকার জন্য শুরু থেকেই মার্কোকে প্রধানত দায়ী করে আসছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও ছাত্রনেতাদের দাবি সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক খাতে মৌলিক সংস্কারের জোরালো দাবির পাশাপাশি মার্কো ক্রিকাক এবং পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। প্রায় দুই বছর ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গত ২৫ অক্টোবর সার্বিয়ায় আগাম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ছাত্রসমাজ ও সংস্কারপন্থীদের সমর্থিত রাজনৈতিক জোট এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় জয় লাভ করে।
গ্রেপ্তারের পেছনের আইনি কারণ ও অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দাবির সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই বলে সাফ জানিয়েছেন বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ। রোববার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চুড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে এই গ্রেপ্তারের বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই; এটি সম্পূর্ণ আইনানুগ ও ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের অংশ।
মার্কো ক্রিকাকের পাশাপাশি সার্বিয়ার সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের পুলিশ কমান্ডার বোসকো সেকুলোভিচকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দুজনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে যে, তাঁরা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার এবং দায়িত্বে অবহেলার মাধ্যমে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশপ্রধান ভেসেলিন মিলিচের মারাত্মক পেশাগত ও ব্যক্তিগত ক্ষতিসাধন করেছেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসে রাজধানী বেলগ্রেডের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ভূগর্ভস্থ অপরাধজগতের এক শীর্ষ ব্যক্তিকে চাঞ্চল্যকরভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই অভিযুক্ত এই দুই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর অপরাধের তথ্য গোপন ও কুখ্যাত অপরাধীকে সহায়তা করার গুরুতর অভিযোগে সাবেক পুলিশপ্রধান মিলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় পুলিশি হেফাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পেয়ে মার্কো ক্রিকাক এবং কমান্ডার সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে আদালতে আনুষ্ঠানিক মামলা করেন ভেসেলিন মিলিচ। তাঁর মূল অভিযোগ ছিল, সেই সময়কার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্ত চলাকালে ওই দুই কর্মকর্তা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে প্রসিকিউটরদের কাছে সম্পূর্ণ অসম্পূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুয়া প্রমাণাদি সরবরাহ করেছিলেন।