সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় বড় ভাইকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিনজন আটক
সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে বড় ভাই মোশারফ সরদারকে ছুরিকাঘাত ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মোশারফ সরদার (৪৮) ছিলেন মৃত ফজর আলী সরদারের বড় ছেলে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে এবং আরও অভিযুক্তদের খোঁজে অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে মোশারফ সরদার তার ছোট ভাই হোসেন আলী সরদারের সঙ্গে খালে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই মোশারফের অন্য দুই ছোট ভাই, সোহরাব (৩৮) ও আশরাফ (৩২), তাদের কাজে বাধা দেন। এর ফলে সেখানে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। তর্কের এক পর্যায়ে আশরাফ সরদার মোশারফকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। সোহরাব এবং শাহিনা বেগমও এই হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোশারফের ছোট ভাই হোসেন আলী সরদার ভাইকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিনিও আহত হন। এসময় মোশারফ গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে যান এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান। স্থানীয়রা পরবর্তীতে সোহরাব, আশরাফ ও শাহিনা বেগমকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং বাকিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “এই ঘটনাটি নিয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুলিশ বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের সহিংসতা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়, আর আমরা চাইব দোষীরা আইনের আওতায় আসুক।”
স্থানীয়রা হতবাক এবং শোকিত। তারা জানান, মোশারফ সরদার ছিলেন একজন শান্তিপূর্ণ এবং সম্মানিত মানুষ। তার সহিংস মৃত্যু গ্রামে শোকের ছায়া ফেলেছে। গ্রামবাসী জানান, মোশারফ ও তার ছোট ভাইদের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল, তবে এমন সহিংসতার ঘটনা অনেকেই আশা করেননি। এলাকার অনেকেই দাবি করেছেন, “এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা, এবং আমাদের প্রিয় মানুষকে আমরা হারালাম।”
এলাকার এক বাসিন্দা জানান, “এমন ঘটনা কখনোই ঘটতে পারে না। আমরা চায়াম, দোষীরা যেন শাস্তি পায় এবং পরবর্তীতে যেন এই ধরনের সহিংসতা বন্ধ হয়।”
কলারোয়া থানার পুলিশ ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এলাকার আরও কিছু সাক্ষীর বক্তব্য নেবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে, পুলিশ এই ঘটনার পেছনের পুরো কারণ জানা না হওয়া পর্যন্ত কিছু নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি। তবে, স্থানীয়রা দাবি করেছেন, জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল, যার ফলে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং দ্রুত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। ঘটনার তদন্তে তারা কোনো রকম চাপ ও প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই ঘটনায় এলাকায় এক ধরনের আতঙ্ক এবং শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় মানুষ একে ‘অবিশ্বাস্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, গ্রামে এমন ঘটনার কোনো পূর্বাভাস ছিল না এবং এই ঘটনায় পুরো গ্রামবাসী শোকাহত। স্থানীয়রা বলেন, “আমরা এমন কোনো সহিংসতার সাক্ষী হতে চাই না, এটা খুবই দুঃখজনক।”
এলাকাবাসী আরও বলেছেন, “এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করতে হবে, পরিবারের মধ্যে সম্মান বজায় রাখা এবং সমঝোতা ছাড়া কোনো ধরনের সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা চাই পুলিশ এবং প্রশাসন এই বিষয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুক।”
স্থানীয়রা জানায়, মোশারফ সরদারের পরিবারে বেশ কিছুদিন ধরে জমি-জমা নিয়ে সমস্যা চলছিল। অনেক সময়ই এর জের ধরে বাকবিতণ্ডা হয়েছে, কিন্তু কখনো এমন পরিস্থিতি ঘটবে, তা কেউ ধারণা করেনি। নিহত মোশারফ সরদারের আত্মীয়-স্বজনরা জানায়, তার পরিবারে শৃঙ্খলা ছিল এবং তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তবে জমি-জমা নিয়ে এই বিরোধের কারণে তারা বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনায় ছিলেন।
একজন প্রতিবেশী জানান, “এই হত্যাকাণ্ড পারিবারিক ঝামেলার ফলশ্রুতি হতে পারে, কিন্তু এভাবে মানুষ খুন করা উচিত নয়। যারা এতে জড়িত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া উচিত।”
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |