| বঙ্গাব্দ

চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধর বিএনপি নেতার, ভিডিও ভাইরাল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 28-10-2026 ইং
  • 71519 বার পঠিত
চাঁদা না পেয়ে ইউপি সদস্যকে মারধর বিএনপি নেতার, ভিডিও ভাইরাল
ছবির ক্যাপশন: বিএনপি নেতার, ভিডিও ভাইরাল

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের বিলের টাকা থেকে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় এক ইউপি সদস্যকে নিজ কার্যালয়ে ঢুকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ইউপি সদস্যকে প্রকাশ্যে কিল-ঘুসি মারা ও ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দেওয়ার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নিজস্ব কক্ষে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিকার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে পরবর্তীতে রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ (৫১)।

ভুক্তভোগী সরোয়ার হোসেন আকন্দ সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য। অন্যদিকে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম তোতা রায়গঞ্জ থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহসভাপতি এবং সোনাখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দের একটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেন। কিন্তু প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার পর বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতা উক্ত বিলের টাকা থেকে অন্যায্যভাবে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদার টাকা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় ঘটনার দিন বিকেলে চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে তোতা ইউপি সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে তোতা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাৎক্ষণিক নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। তাতে রাজি না হওয়ায় তোতা চরম উত্তেজিত হয়ে ওই ইউপি সদস্যকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে গুরুতর লাঞ্ছিত ও মারধর করেন।

পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় লোকজন ও পরিষদ সদস্যদের সহযোগিতায় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন কোনোক্রমে আত্মরক্ষা করলেও, উত্তেজিত তোতা তাকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থেকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জোরপূর্বক বের করে দেন।

ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আকন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের পকেটের টাকা খরচ করে কালভার্টের কাজ শেষ করেছি। কিন্তু ওই বিএনপি নেতাকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দেওয়ায় আমি বিলে সই করাতে পারছি না। পরিষদের সচিব চেক রেডি করে রাখলেও তোতা সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে—তাকে ৫০ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত যেন আমাকে চেক হস্তান্তরিত না করা হয়।”

তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলাম তোতা। তিনি দাবি করেন, “ইউনিয়ন পরিষদে ওই মেম্বারের সঙ্গে সামান্য কথাকাটাকাটির যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সমাধানের দায়িত্ব স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও বিএনপি নেতারা নিয়েছেন। আশা করছি বিষয়টি দ্রুতই মীমাংসা হয়ে যাবে।”

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার জানান, তাঁর চোখের সামনেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। জনপ্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসানুজ্জামান জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইউপি সদস্যের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বা পরিষদ ভবনে এই ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency