প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শীর্ষ শিল্পপতি গৌতম আদানের বিরুদ্ধে ‘স্বজনতোষী পুঁজিবাদে’র অভিযোগ এনে নির্মিত একটি বিতর্কিত প্রামাণ্যচিত্র অনলাইন মাধ্যম থেকে অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট। আদানি এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মানহানি মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দেন, ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই প্রামাণ্যচিত্র বা এর কোনো অংশ প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে না।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে আদানি এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ওই প্রামাণ্যচিত্রে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোম্পানির সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে চরম বিভ্রান্তি তৈরি করছে।
বিতর্কিত এই প্রামাণ্যচিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড ও প্রচার করেছিলেন ইন্টারনেট দুনিয়ার পরিচিত মুখ ও হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাবীর ভাটিয়া। ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ভিডিওটি ইউটিউব ও এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশের পর কয়েক লাখ মানুষ তা প্রত্যক্ষ করেন। আদানি গ্রুপ মানহানির দায়ে ৫০ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ চেয়েছে উল্লেখ করে সাবীর ভাটিয়া নিজেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “সত্য আমার পক্ষেই আছে। মূলত এই প্রামাণ্যচিত্রটি আদানি এন্টারপ্রাইজের ভিত নাড়িয়ে দিতে পেরেছে বলেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গৌতম আদানির সঙ্গে বিশেষ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছে। বিরোধীদের দাবি, নীতিমালা শিথিল করে এবং সরকারি নানা সুবিধা দিয়ে আদানি গ্রুপকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার এবং আদানি গ্রুপ উভয় পক্ষই এসব অভিযোগ শুরু থেকেই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে অস্বীকার করে আসছে।
আইনি শুনানিতে আদানি এন্টারপ্রাইজের আইনজীবীরা জানান, সরকার বা কোনো বৃহৎ বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর নীতি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা বন্ধ করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।
হাইকোর্টের আদেশের পর এখন পর্যন্ত আদানি এন্টারপ্রাইজ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (পিএমও) কিংবা সাবীর ভাটিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |