| বঙ্গাব্দ

তখন মোবাইল থাকলে বাপ্পারাজের দুষ্টুমিগুলো ভাইরাল হতো: ওমর সানী

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 21-10-2026 ইং
  • 5317 বার পঠিত
তখন মোবাইল থাকলে বাপ্পারাজের দুষ্টুমিগুলো ভাইরাল হতো: ওমর সানী
ছবির ক্যাপশন: বাপ্পারাজের দুষ্টুমিগুলো ভাইরাল হতো: ওমর সানী

বন্ধুর প্রশংসায় ওমর সানী: বাপ্পারাজ অত্যন্ত ভালো মানুষ, তবে ভীষণ দুষ্টু

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের সিনেমায় একসঙ্গে বহুবার দেখা গেছে ওমর সানী ও বাপ্পারাজকে। দীর্ঘদিনের সহকর্মী এই দুই অভিনেতার সম্পর্ক পর্দার বাইরেও বন্ধুত্বপূর্ণ। সেই বন্ধুত্বে যেমন রয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পুরোনো দিনের স্মৃতি, তেমনি আছে হাসিঠাট্টাও। সম্প্রতি বাপ্পারাজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা তুলে ধরেছেন ওমর সানী। বন্ধুকে নিয়ে গর্বের কথা বলার পাশাপাশি তার দুষ্টুমির প্রসঙ্গও এনেছেন তিনি।

ওমর সানীর কাছে বাপ্পারাজ শুধু একজন সহকর্মী নন, পরিবারের কাছের মানুষও। নিজের পাশাপাশি স্ত্রী চিত্রনায়িকা মৌসুমীরও ভালো বন্ধু বাপ্পারাজ। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তার সঙ্গে তৈরি হয়েছে এমন এক সম্পর্ক, যেখানে তারকাখ্যাতির চেয়ে বড় হয়ে উঠেছে মানুষটির ব্যক্তিত্ব। স্ট্যাটাসে ওমর সানী লিখেছেন, ‘একজন বাপ্পারাজ, একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো বন্ধু এবং দুষ্টু বন্ধু, হাসিখুশি বন্ধু।’

এরপর একসঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করার স্মৃতি তুলে ধরেছেন ওমর সানী। বাপ্পারাজ নায়ক রাজ্জাকের সন্তান, নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা। সেই পরিচয়ের পরও তার মধ্যে কখনো অহংকার দেখেননি ওমর সানী; বরং একসঙ্গে কাজ করার সময় বাপ্পারাজের আচরণ তাকে অবাক করত।

ওমর সানীর ভাষায়, ‘আমি মাঝেমধ্যে অবাক হতাম, উনি নায়করাজের সন্তান এবং একজন ভালো আর্টিস্ট, উনি কেন আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন? কিন্তু দিন শেষে উনি বলতেন, কাজটাই হচ্ছে আসল।’

কাজের ক্ষেত্রে এই দৃষ্টিভঙ্গিই বন্ধুর প্রতি ওমর সানীর শ্রদ্ধার অন্যতম কারণ। চলচ্চিত্রে কে কার চেয়ে বড়, কে কোন পরিবারের সন্তান—এসবের চেয়ে কাজকেই যে গুরুত্ব দেওয়া উচিত, বাপ্পারাজের আচরণে সেই শিক্ষা পেয়েছেন বলে তার কথায় বোঝা যায়।

বন্ধুত্বের গল্পে দুষ্টুমিও আছে বাপ্পারাজের প্রশংসা করতে গিয়ে ওমর সানী তার দুষ্টুমির কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন। একসঙ্গে কাজ করার দিনগুলোতে বাপ্পারাজের দুষ্টুমিতে শুটিংয়ের পরিবেশ হয়ে উঠত প্রাণবন্ত। সেই স্মৃতি মনে করে ওমর সানী লিখেছেন, ‘আর এত দুষ্টুমি করতেন, এখনো করেন। ওই আমলে যদি এই মোবাইল থাকত, তাহলে দুষ্টুমির চরম ভাইরাল হতাম আমি।’

বন্ধুকে নিয়ে এমন মজার স্মৃতিচারণা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালেও বাপ্পারাজকে নিয়ে ফেসবুকে লিখেছিলেন ওমর সানী। তখন বাপ্পারাজকে নিজের সাফল্যের পেছনে অবদান রাখা মানুষদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে তার মার্জিত আচরণ, অভিনয়গুণ ও বন্ধুত্বের প্রশংসা করেছিলেন। বাপ্পারাজের সামনে গেলে নিজের বয়স যেন ২২ বছর মনে হয়—এমন কথাও লিখেছিলেন ওমর সানী।

বন্ধুর প্রতি স্যালুট বাপ্পারাজকে নিয়ে এবারের স্ট্যাটাসে ওমর সানীর সবচেয়ে আন্তরিক কথাগুলোর একটি তার ব্যক্তিগত অভ্যাস নিয়ে। বন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাপ্পারাজ ভাই, আপনাকে একটা কারণে স্যালুট, কোনো বদ অভ্যাস আপনার নাই। আপনার কাছে বরঞ্চ আমরা খারাপ।’

বন্ধুর প্রতি এমন প্রশংসার মধ্যেও রয়েছে তাদের সম্পর্কের সহজ-স্বাভাবিক রসায়ন। বাপ্পারাজের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে নিজের প্রজন্মের একজন অভিনেতা হিসেবে তাকে নিয়ে গর্বের কথাও বলেছেন ওমর সানী। তবে সেই গর্বের সঙ্গে দুষ্টু বন্ধুকে খোঁচা দিতে ভোলেননি তিনি। স্ট্যাটাসের শেষ দিকে লিখেছেন, ‘আমার জেনারেশনে আমি বাপ্পারাজকে নিয়ে গর্ব করি। দিন শেষে বলি, আপনি অনেক দুষ্টু।’

ঢালিউডে দীর্ঘদিন কাজ করতে গিয়ে অনেক সহকর্মীর সঙ্গেই সম্পর্ক তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে কারও কারও যোগাযোগ কমে যায়, আবার কিছু সম্পর্ক থেকে যায় আগের মতোই। ওমর সানীর এই স্ট্যাটাসে বাপ্পারাজের প্রতি যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটেছে, তাতে বোঝা যায়—সিনেমার বাইরেও তাদের সম্পর্কের জায়গাটি বেশ গভীর।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency