প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই (FDI)-এর পরিসংখ্যানে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও নতুন মূলধন আকর্ষণে মন্দা কাটেনি। চলতি ২০২৬ সালের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে নিট এফডিআই ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ বাড়লেও এই প্রবৃদ্ধির সিংহভাগই এসেছে দেশে পূর্বে থেকে ব্যবসায় থাকা বিদেশি কোম্পানিগুলোর অর্জিত মুনাফা পুনর্বিনিয়োগ (Reinvested Earnings) থেকে।
বিপরীত চিত্রে, নতুন মূলধন বা ইকুইটি বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৫ শতাংশ। পাশাপাশি বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব চিত্র প্রকাশ করেছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।
বাংলাদেশে সাধারণত তিনটি উপায়ে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আসে— নিট পুনর্বিনিয়োগকৃত আয়, নিট ইকুইটি মূলধন (নতুন বিনিয়োগ) এবং নিট আন্তঃকোম্পানি ঋণ।
সাম্প্রতিক প্রান্তিকের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
মোট নিট এফডিআই: এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে দেশে মোট নিট এফডিআই এসেছে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
মুনাফা পুনর্বিনিয়োগের দাপট (৭৫%): মোট নিট এফডিআইয়ের মধ্যে ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলারই এসেছে বিদ্যমান বিদেশি কোম্পানিগুলোর পুনঃবিনিয়োগ থেকে। অর্থাৎ, এফডিআই প্রবৃদ্ধির তিন-চতুর্থাংশই এসেছে পুরোনো বিনিয়োগকারীদের হাত ধরে।
নতুন ইকুইটি মূলধন হ্রাস: আলোচ্য প্রান্তিকে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ এসেছে ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ কম।
আন্তঃকোম্পানি ঋণে বড় ধস: বিদেশি কোম্পানিগুলোর আন্তঃকোম্পানি ঋণের নিট প্রবাহ ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৬ লাখ ১০ হাজার ডলারে। যদিও এ সময়ে মোট ৩৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলারের ঋণপ্রবাহ ছিল, তবে পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে নিট প্রবাহ ব্যাপক হ্রাস পায়।
| খাত/অঞ্চল | প্রাপ্ত নিট এফডিআই (এপ্রিল-জুন) | পরিবর্তন (বছরওয়ারি) |
| মোট নিট এফডিআই | ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার | ১২.৭৮% বৃদ্ধি |
| পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় | ২৬ কোটি ৯ লাখ ১০ হাজার ডলার | উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি |
| নতুন ইকুইটি মূলধন | ৭ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার | ৪.৭৭% হ্রাস |
| অর্থনৈতিক অঞ্চল (EZ) | ৪.৫১ মিলিয়ন ডলার | ২৫.৩৩% হ্রাস |
| ইপিজেডের বাইরের খাত | ২৮০.৮৮ মিলিয়ন ডলার | ২০.৭৫% বৃদ্ধি |
এফডিআইয়ের এমন সমীকরণের ব্যাখ্যায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে— বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব বিশ্বজুড়েই নতুন মূলধন প্রবাহে চাপ তৈরি করেছে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন উইং) নাহিয়ান রহমান রচি বলেন:
“বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্বিনিয়োগ বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতি বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের গভীর আস্থা রয়েছে। তবে বিশ্বব্যাপী সতর্ক অবস্থানের কারণে নতুন ইকুইটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও জানান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের পাইপলাইনে থাকা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য প্রকল্পগুলোকে দ্রুত বাস্তবায়ন পর্যায়ে নিতে সংস্থাটি কাজ করছে। পাশাপাশি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের উন্নয়নকাজ ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, যাকে ঘিরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের নতুন পথ খুলবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |